“… ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি ধারণা নিয়ে এবার ক্ষমতায় এসেছেন, যার মূল ভিত্তি – সব মানুষ সমান নয়। সবার অধিকারও সমান না। তিনি ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতির মতো করে রাষ্ট্রজীবনকে মূল্যায়ন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যদি সেখানকার কোনো বড় পদে কৃষ্ণাঙ্গ কেউ দায়িত্বে থাকেন, সে ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিইআই (ডাইভারসিটি বা বৈচিত্র্য, ইকুয়ালিটি বা সাম্য ও এনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তি) নীতি দায়ী বলে কৌশলে বর্ণবাদকে উস্কে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের অন্যতম সহযোগী ইলন মাস্ক ডিইআইকে পরিহাস করে ডিআইই (ডাই) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আনভেরিফায়েড বা অশ্লীল ভাষা প্রত্যাশিত না হলেও ট্রাম্প তা হরহামেশাই করে চলছেন। কথাবার্তায় ন্যূনতম শালীনতা না রেখেই তিনি মানুষকে ‘অপরাধী’, ‘এলিয়েন’ হিসেবে সম্বোধন করছেন। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়া করতে তাদের হাত-পায়ে শিকল পরিয়ে পশুর মতো সামরিক বিমানে করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন। … তিনি তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পলিসি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেশকে বের করে এনেছেন। বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য, অনুদান ও ফান্ডিং কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। ইলন মাস্কের মতো সাবেক টুইটারের কর্মী ছাঁটাইয়ের নীতি অনুসরণ করে তিনিও প্রায় একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে নিজ দেশের ২০ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে চাকরি ছাড়ার জন্য ই-মেইল পাঠিয়েছেন।
.. প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর অন্যতম সহচর ধনকুবের ইলন মাস্ক মিলে সম্ভবত নতুন এক ‘ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ রচনা করতে চাচ্ছেন, যেখানে তারা প্রবলভাবেই বাক্ স্বাধীনতার সংজ্ঞা নিজেদের মতো করে লিখতে চাচ্ছেন। রাষ্ট্রের কল্যাণমুখী হওয়ার প্রথাগত ধ্যান-ধারণা বদলে দিয়ে তারা একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিন্তা করছেন। যেখানে সবকিছুকে লাভ-লোকসানের পাল্লায় মাপা হচ্ছে।নিজেদের মতাদর্শ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে উগ্র ডানপন্থাকে উস্কে দিচ্ছেন। … এতে একদিকে যেমন বাড়বে বিভক্তি-বৈষম্য অন্যদিকে দুর্বল হবে রাষ্ট্রের সফট পাওয়ার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো আগামী চার বছর পর বিদায় নেবেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত রেখে যাবেন, তা শুকাতে হয়তো কয়েক যুগ লেগে যাবে।”


