মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পার্লামেন্টে ঘোষণা করেছেন যে, পিসফুল অ্যাসেম্বলি অ্যাক্টের যে ধারা অনুযায়ী সংগঠকদের আগে স্থানীয় মালিকদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হতো, তা এখন থেকে উঠিয়ে দেওয়া হবে। নতুন নিয়ম অনুসারে, সমাবেশ আয়োজনের জন্য শুধুমাত্র পুলিশকে ৫ দিন আগে নোটিফিকেশন দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিবর্তনটি নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য করা হচ্ছে।
পুলিশ সাধারণত এই নিয়মটিকে ব্যবহার করে প্রতিবাদ এবং সমাবেশ আটকানোর চেষ্টা করত। স্থানীয় মালিকরা যদি সমাবেশের অনুমতি না দিতেন, তবে পুলিশ সেই সমাবেশকে অবৈধ ঘোষণা করত। তবে নতুন নিয়মে, অনুমতি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, যা বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং এনজিওগুলোর জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, অস্ত্রসহ সমাবেশ এবং শিশুদের নিয়ে সমাবেশ এখনও নিষিদ্ধ থাকবে, এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু স্থান ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, তার সরকারের অধীনে ২০২২ সাল থেকে প্রতিবাদের আবেদনগুলো প্রায়ই অনুমোদিত হয়েছে, তবে গত মাসে কুয়ালালামপুরে একটি ছাত্র নেতৃত্বাধীন গ্রুপ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমাবেশ করার জন্য পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাকযুদ্ধের মধ্যে পড়ে। যদিও প্রতিবাদটি শেষ পর্যন্ত আয়োজিত হয়েছিল, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল, যা আনোয়ার নিশ্চিত করেছেন যে, তা এখন বন্ধ করা হবে।
এই আইনের পরিবর্তনটি দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় প্রতিবাদকারীদের এবং রাজনৈতিক দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ২০১২ সালে, একটি বড় সমাবেশে পুলিশের জলক্যানন এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছিল, যখন জনগণ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল। বর্তমানে, ফাহমি রেজা, একজন কার্টুনিস্ট এবং সমাজকর্মী, নতুন আইনের পরিবর্তনকে ছাত্রদের এবং জনগণের জয় হিসেবে উদযাপন করেছেন, যাদের সংগ্রাম ছিল সমাবেশের স্বাধীনতা এবং প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার।


