অন্তর্বতীকালীন সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। ২০২৫ সালে ২০১২ সালে প্রবর্তিত শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমের সমালোচনা থাকায়, এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে, ২০২৫ সালের পাঠ্যবই আগের পাঠ্যসূচি অনুসারে মুদ্রিত হয়েছে। মূল পরিবর্তনসমূহ শ্রেণি ৯ থেকে পুনরায় তিনটি পৃথক বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক, ও ব্যবসায় শিক্ষা) চালু করা হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, কিছু পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ২০২১ সালে প্রবর্তিত নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি পরিত্যাগ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের সব কিছুতে ফিরে যাওয়া বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নয়।
উদাহরণস্বরূপ, শ্রেণি ৯ থেকেই শিক্ষার্থীদের বিষয় নির্বাচন করতে বাধ্য করা উচিত কি না তা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলো সাধারণত শিক্ষার্থীদের একটু পরিণত বয়সে বিষয় নির্বাচন করতে দেয়। ২০২৬ সাল থেকে পরিবর্তন আসতে পারে
২০২৫ সালকে একটি সমন্বয় পর্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে যেখানে মূলত শিক্ষকদের প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীদের শেখার মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, শিক্ষাক্রমের মূল বিষয়বস্তু যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সহায়ক কাঠামোড়যেমন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাক্রমের কার্যকর প্রয়োগ, এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের নিশ্চয়তা।
মূল শিক্ষা সংশোধনী বিষয়ক প্রশ্নসমূহ
১) প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠ্যবিষয়ের ভারসাম্য: বাংলা ও গণিতের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত কি? অন্যান্য বিষয়গুলোকে কি সম্পূরক পাঠ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়?
২) ক্লাস রুটিনের স্থিতিস্থাপকতা: প্রতিটি ক্লাস ৩৫
মিনিটের নির্দিষ্ট সময়সীমায় বাধ্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কি ক্লাসের সময়সীমায় নমনীয়তা আনা সম্ভব?
ইংরেজি শিক্ষার সময় নির্ধারণ: শ্রেণি ১-৩ এ বাংলা ও
গণিতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইংরেজি পাঠ শ্রেণি ৪ থেকে শুরু করা কি ভালো সিদ্ধান্ত হবে?
ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রম: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক
অনুশীলন, খেলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন কি না?
পাঠ্যবই ব্যবস্থাপনা: উন্নতমানের কাগজে মুদ্রিত , বহুবর্ষী , পাঠ্যবই ব্যবস্থার মাধ্যমে বই ধার দেওয়ার পদ্ধতি চালু করা কি উচিত? এটি কাগজের অপচয় কমাতে ও বই বিতরণ সহজ করতে সাহায্য করবে। রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত শিক্ষাক্রম পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক ও সাম্প্রতিক সামাজিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা কি যৌক্তিক? নাকি শিশুদের জন্য নিরপেক্ষ ও মৌলিক শিক্ষাবিষয়ক পাঠ্যবই রাখা উচিত? মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি: শুধু পিইসি বা বৃত্তি পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার বদলে, প্রতিটি শ্রেণির জন্য নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না?
বৃহত্তর সংস্কার প্রশ্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) কে পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ প্রক্রিয়া আলাদা করা। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের মধ্যে সমন্বয় আনা।শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে, শুধু পাঠ্যসূচি পরিবর্তন করাই যথেষ্ট নয়; বরং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পাঠ্যবই ব্যবস্থাপনা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।


