ফিলিস্তিনের গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি অবসানের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘যদি শনিবার ১২টার মধ্যে সব জিম্মিকে ফেরত দেওয়া না হয়, আমার মনে হয়, এটাই উপযুক্ত সময়। আমি বলব, এটা (যুদ্ধবিরতি) বাতিল করো। ইসরায়েলকে ওখানে নরকের যন্ত্রণা বইয়ে দিতে বলব। চুক্তির শর্ত ভেসে যাক। ইসরায়েল ওই পরিস্থিতি পার হয়ে আসতে পারবে।’ ট্রাম্প দাবি করেন, এক সঙ্গেই সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। দফায় দফায় তিন-চারজন করে জিম্মি মুক্তির বিষয়টির সঙ্গে একমত নন তিনি।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনে হামাসের পক্ষ থেকে শর্ত অনুযায়ী জিম্মি মুক্তি স্থগিত করার কথা জানানোর পর ট্রাম্প এমন হুমকি দিলেন। এএফপির খবরে জানা যায়, হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন-ইসরায়েলের কারণে যুদ্ধবিরতির পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের উত্তর গাজায় ফিরতে দেরি হয়েছে। তাঁদের গুলির লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাতে দেয়নি ইসরায়েল।
পরে আরেক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত বন্দিবিনিময়ের পাঁচ দিন আগে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘোষণা (স্থগিতের) দিয়েছে হামাস। এর উদ্দেশ্য ছিল চুক্তির শর্ত পূরণের জন্য যাতে (ইসরায়েলি) দখলদারির বিরুদ্ধে চাপ তৈরির জন্য মধ্যস্থতাকারীরা পর্যাপ্ত সময় পান। দখলদারেরা চুক্তির শর্ত মেনে চললে পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে বন্দিবিনিময়ের কাজ এগিয়ে নিতে দরজা খোলা থাকবে।’ ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী যেকোনো সম্ভাব্য দৃশ্যপটের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার ফক্স নিউজের ব্রেট বাইয়েরের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন-যদি জর্ডান ও মিশর গাজা থেকে পুনর্বাসিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ না করে, তাহলে তিনি এই দেশগুলোর জন্য মার্কিন সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর এই দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণে সহায়তা দিয়ে থাকে তাই এই চুক্তিতে তাদের রাজি হওয়া উচিত। ফিলিস্তিনিদের গাজায় ফিরে আসার অধিকার থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন-‘না, তাদের তা থাকবে না কারণ তারা আরও ভালো আবাসন পাবে। আমি তাদের জন্য একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করার কথা বলছি। গাজা পুনরায় বসবাসযোগ্য হতে কয়েক বছর লাগবে।’
এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, রোববার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন-‘আমি মনে করি, ফিলিস্তিনিদের বা অন্য মানুষকে গাজায় বসবাসের অনুমতি দেওয়া একটি বড় ভুল। আমরা চাই না, হামাস আবার সেখানে ফিরে যাক। আমি মনে করি, গাজা একটি ‘বড় আবাসন এলাকা’।যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এটি দখলে নেওয়া। আমরা ধীরে ধীরে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে, কোনো ধরনের তাড়াহুড়া ছাড়াই এটি সংস্কার করব। আমরা শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনব।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক একজন বড় আবাসন ব্যবসায়ী। তিনি গাজাকে ‘বিধ্বস্ত স্থান’ হিসেবে বর্ণনা করে এটি ‘সমতল’ ও ‘ঠিক’ করা হবে বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প আবারও পরামর্শ দেন, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ‘সুন্দর জায়গায়’ বাড়িঘর করে দেবে।


