বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনেকটা উন্নতি হলেও এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সমস্ত ক্ষেত্রেই রয়েছে নতুন নতুন সমস্যা। কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ কি শুধুই সংক্রামক রোগ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো জটিল বাস্তবতা লুকিয়ে আছে? নিত্য চলমান রাজনৈতিক কূটনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে কতোটা উঠে আসছে জনস্বাস্থ্যের আলোচনা! জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও হাসপাতালগুলোতে এখনও শয্যার সংকট, ওষুধের অভাব, আর চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির অভিযোগ। স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ বাড়লেও এর কত শতাংশ আসলেই রোগীদের কল্যাণে ব্যয় হয়, সেটিও রহস্যের বিষয়! বিশেষজ্ঞদের মতে, জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ শুধুমাত্র রোগ নয়, বরং এটি একটি গভীর প্রশাসনিক সংকটও।
বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ভারতের দিল্লি, এরপর রয়েছে ঢাকা। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর তালিকায় প্রায়ই ঢাকার নাম শীর্ষে থাকে। এই দূষণের ফলে প্রতিদিন শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, “ঢাকার বায়ু এতটাই দূষিত যে, এটি প্রতিদিন ১০-১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতি হচ্ছে মানুষের !” তবুও, পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এখনো গড়িমসি চলছে। এছাড়াও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন নিয়ে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত করা খসড়া তালিকা বলছে, এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৫৫১ জন আহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে তারা। আন্দোলনের আহতদের চিকিৎসা নিয়েও চলছে নানা অভিযোগ। আহতরা সুচিকিৎসার দাবিতে আন্দোলন করলেও অবস্থার কতটা অগ্রগতি হচ্ছে সেটা দেখার বিষয়।
গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৭৩ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৩০ জন। বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি রোগ নয়, বরং সারা বছরজুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যায়, এবং মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সচেতনতার উপর নির্ভর করবে, নাকি এর পেছনে প্রশাসনিক ব্যর্থতাও লুকিয়ে আছে? সিটি কর্পোরেশন গুলো কতোটা সচেতন? কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে কিনা? এ প্রশ্ন গুলোর দিকে নজর দিতে হবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেজাল ও রাসায়নিক মিশ্রিত খাবার। ফরমালিনযুক্ত মাছ, কার্বাইড মেশানো ফলমূল, এবং নিষিদ্ধ কেমিক্যালযুক্ত খাদ্যদ্রব্য নীরবে মানুষের ক্ষতি করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ৭০% রাস্তার খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিক উপাদান থাকে। দেশের গ্রামাঞ্চলের ৬০-৭০% মানুষ রোগ হলে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনে। এতে করে ভুল চিকিৎসা এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা মারাত্মকভাবে বাড়ছে।


