সম্প্রতি ভারতের রাজস্থানে জয়পুর লিটারেরি ফেস্টিভ্যালে ‘বাংলাদেশ এই দিকে ওই দিকে’ শীর্ষক এক প্যানেল ডিসকাশনে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী, লেখিকা ও গবেষক শ্রীরাধা দত্ত এবং লেখক সুদীপ চক্রবর্তী। আলোচনায় হরিয়ানার ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ‘ভারত ইস্যুতে বাংলাদেশের সন্দেহের মূল কারণ হলো, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা।’ তবে শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করতে বাধ্য। তাই যত দ্রুত তা শুরু করা যায়, ততই মঙ্গল।’
শ্রীরাধা দত্ত আলোচনায় বাংলাদেশি নারীদের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়ে তাদের আগ্রহের বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি। শ্রীরাধা বলেন, ‘নারীরা বাংলাদেশে মধ্যপন্থী শক্তি এবং সরকার ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে তাদের বিশাল উপস্থিতি এ ক্ষেত্রে ধর্তব্য।’ বাংলাদেশের বৃহৎ তৈরি পোশাক শিল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা চরমপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, ইসলামী দলগুলোও নারীদের চাহিদা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মনোযোগ দিয়েছে।’ সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বাংলাদেশে রক্ষণশীলতার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে লক্ষ্য করেছেন। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে কেবল বাংলাদেশ নয়, ভারতসহ বিশ্বব্যাপী রক্ষণশীলতা বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘রক্ষণশীলতা বাড়ছে। সুতরাং, আমাদের শুরুতেই এটিকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে, তারপর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে যে, বাংলাদেশে রক্ষণশীলতা নিয়ে আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না।’ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রসঙ্গে সুদীপ বলেন, ‘এই আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা দরকার।’ তিনি তাঁর বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং প্রশাসনে দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
সুদীপ চক্রবর্তী জোর দিয়ে বলেন, ভারত যেন বাংলাদেশকে শুধু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট থেকে না দেখে। কারণ, বাংলাদেশ এরই মধ্যে সেই অধ্যায় পেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশেই ভারতবিরোধী মনোভাবের মূল কারণ হলো, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় দেশ হিসেবে ভারতের ঐতিহাসিক আধিপত্য। কারণ, এই বিষয়টি ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে একটি অসম সম্পর্ক সৃষ্টি করে এবং সব ছোট দেশই এ ধরনের আধিপত্যকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে। তবে এই সমস্যার সমাধান হলো ‘বিচক্ষণ কূটনীতি।’


