দেশে এখন নির্বাচন হলে কোন দলকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি ৩৮% মানুষ। বাকি মানুষের ১৬% বিএনপিকে, ১১% জামায়াতে ইসলামীকে এবং ৯% ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ৩% মানুষ অন্য ইসলামী দলগুলোকে ও ১% জাতীয় পার্টিকে ভোেট দেয়ার কথা বলেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) ‘পালস সার্ভে’-র দ্বিতীয় ধাপের জরিপ। গত ১৫-৩১ অক্টোবর গ্রাম ও শহরের নানা শ্রেণি, পেশার ৪,১৫৮ মানুষের মতামত টেলিফোনে নেয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করলে তাদের ভোট দেবেন ৪০% মানুষ, ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন ৪৪% মানুষ। জরিপে দেখা যায় রাজনৈতিক বিবেচনায় ‘দেশ সঠিক পথে’ মনে করেন ৫৬% মানুষ, ভুল পথে যাচ্ছে মনে করেন ৩৪%। আগস্টে বিআইজিডির প্রথম জরিপে ৭১% মানুষ বলেছিলেন, দেশ ঠিক পথে যাচ্ছে। ভুল পথে যাচ্ছে বলেছিলেন ১২%। অর্থনৈতিক বিবেচনায় দেশ ভুল পথে যাচ্ছে বলে মনে করেন ৫২% মানুষ, ঠিক পথে যাচ্ছে মনে করেন ৪৩% মানুষ। আগস্টে প্রথম জরিপে ৬০% মানুষ বলেছিলেন দেশ ঠিক পথে যাচ্ছে, ভুল পথে যাচ্ছে বলেছিলেন ২৭%।
রাজনীতি ও অর্থনীতি মিলিয়ে আশাবাদী ৩৭% মানুষ এবং নিরাশাবাদী ২৯%। বাকিরা হ্যাঁ/না কিছুই বলেননি। আগের জরিপে আশাবাদী ছিলেন ৬৮% এবং নিরাশাবাদী ১৩%। অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে নির্বাচিত সরকার দেশ ভালো পরিচালনা করবে কি না, এমন প্রশ্নে ৭৯% উত্তরদাতা নির্বাচিত সরকারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দ্বিমত প্রকাশ করেছেন ১৫%। অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে ২৪% মানুষ বলেছেন, তিন বছর বা তার বেশি সময় মেয়াদকাল হতে পারে। ১৬% বলেছেন দুই বছর, ১৪% বলেছেন এক বছর, ১৯% বলেন তিন থেকে ছয় মাস। আর অন্তর্বর্তী সরকারের অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন ৫% মানুষ।
১০০ নম্বরের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারকে ৪০% মানুষ ৮১ থেকে ১০০ নম্বর দিয়েছেন। গত আগস্টে ৪৮% সরকারকে ৮১ থেকে ১০০ নম্বর দিয়েছিলেন। সরকারের প্রচেষ্টায় সবচেয়ে আস্থাশীল মানুষের সংখ্যা ৮% কমেছে। ৬৭% মানুষ এ মুহূর্তে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক বা ব্যবসায়িক মন্দার কথা বলেছেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অন্তর্বর্তী সরকার ভালো সামাল দিচ্ছে বলে জরিপে মত দিয়েছেন ৪১% মানুষ। নেতিবাচক উত্তর দিয়েছেন ২৮%। কিছুই পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করেন ২৫% মানুষ।


