“সংস্কৃতি বনাম ধর্মের বানোয়াট বিরোধ ভেঙে ফেলতে হবে।“
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম
সমকালের সাথে সাক্ষাৎকারে।
“আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে কিছু নীতি ও এথিকস উঠে এসেছে। আমরা ন্যায়বিচার বা জাস্টিসের কথা বলেছি, রেসপন্সিবিলিটির কথা বলেছি, মানবাধিকারের কথা বলেছি। এখন এসবের একটা রূপ দেওয়াটাই কাজ। বাংলাদেশের মানুষের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, তার কথা বলছি। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, জাতীয়তাবাদের যুগ শেষ হয়ে আসছে। আমাদের জাতীয়তাবাদের নানা ধরনের সমালোচনা ও দুর্বলতা আছে। আমাদের একটা জাতীয় চরিত্র নির্মাণ করতে হবে। সংস্কৃতি বনাম ধর্মের বানোয়াট বিরোধ ভেঙে ফেলতে হবে। সমাজের সব মানুষের সব উপাদান নিয়ে জাতীয় চরিত্র নির্মাণ করতে হবে। “
“ এতদিন আমাদের ইতিহাসকে ৫২ থেকে ৭১ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এই দেশের আরও বড় যে ইতিহাস রয়েছে, সেসবের নির্মোহ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন । গোটা পৃথিবীই এখন সভ্যতাগত রাজনীতির দিকে আগাচ্ছে। ভারত ও চীনও কিন্তু সভ্যতাগত পরিচয় ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পৃথিবীর বুকে দাঁড়াচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আমাদেরও সভ্যতাগত পরিচয় অনুসন্ধান করা প্রয়োজন । জাতীয় ঐক্যের বিষয়টাতেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। রাজনৈতিক দল গঠনের আলাপ এ জন্য এড়িয়ে যাচ্ছি। কারণ এই সময়ে রাজনৈতিক দলের চিন্তা করি বা কার্যক্রম শুরু করি, তাহলে আমরা এক ধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে চলে যাব। “
“ যে জাতীয় ঐক্য আমাদের মাঝে তৈরি হয়েছে, সেটাকে আমরা রক্ষা করতে চাই। সবগুলো দলের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলাপ আলোচনা চলছে। বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী ও নাগরিকদের জায়গাকেই আমরা দলের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ নাগরিক সমাজই আমাদের এই আন্দোলনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ঐক্য ধরে রাখার জন্যই আমরা নাগরিক সংগঠনের কথা ভাবছি।
… আমরা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার পুরোপুরি বিলোপ করতে পারিনি, সেই কাঠামো এখনও রয়ে গেছে। সেটা বিলোপ করার জন্য আমাদের হয়তো একটা দ্বিতীয় অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হবে। “


