দুই সপ্তাহের যুদ্ধে আসাদের পতনে সশস্ত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ইসলামপন্থী সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), তুরস্ক-সমর্থিত সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এসএনএ), যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি সংগঠন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স এবং আরও কয়েকটি ছোট ছোট দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি গোষ্ঠী। সিরিয়া ছিল ইরান থেকে লেবাননে হিজবুল্লাহ ও সিরিয়ার মিলিশিয়াদের মূল সামরিক সরবরাহ লাইন। হিজবুল্লাহর সঙ্গে সর্বশেষ যুদ্ধের শুরু থেকে সিরিয়ায় বাশার-সমর্থিত সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে নিয়মিত হামলা করেছে ইসরায়েল। কার্যত ইসরায়েলের হামলায় দুর্বল হওয়া বাশার বাহিনী ইরান ও রাশিয়ার পর্যাপ্ত সহায়তা না পেয়ে বিদ্রোহীদের হামলার মুখে আর টিকতে পারেনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমের দেশগুলো আর্থিকভাবে সিরিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে রাখায় গত ৪ ডিসেম্বর এক মার্কিন ডলারের বিনিময় হয় সাড়ে ১৭ হাজার সিরীয় পাউন্ডে। দেশটিতে বাশারের জনপ্রিয়তা নেমে আসে শূন্যে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক সহায়তায় বিদ্রোহী হায়াত তাহরির আল শামসের নেতৃত্বে বাশারবিরোধী সব গোষ্ঠী ‘এক ছাতা’র নিচে জড়ো হলে বাশারের পতন ঘটে অনেকটা বিদ্যুৎগতিতে। মার্কিন থিংক ট্যাংক নিয়ার ইস্ট সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের অধ্যাপক ডেভিড ডেস রোচেস বিদ্রোহীদের দ্রুতগতির আক্রমণের সাফল্যকে সিরিয়ান সেনাবাহিনীর ‘মনোবল ও নেতৃত্বের অভাব’ বলে মনে করেন।
রোচেস আল-জাজিরাকে বলেন, ‘রাশিয়া বিমান বাহিনীর সমর্থন সরিয়ে নেওয়ার পর ইরান সমর্থিত প্রক্সি বাহিনী যুদ্ধ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এর পর বাকি থাকে কেবল মনোবলহীন, দুর্বল নেতৃত্বাধীন, অপর্যাপ্তভাবে সজ্জিত এবং সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি সশস্ত্র বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকে না।’ এ ছাড়া, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে তুরস্কের তরফ থেকে সরাসরি না হলেও চুপিসারে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে গভীর সমন্বয়ের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এইচটিএসের বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হলে তুরস্ক সমর্থিত সিরিয়ান ন্যাশনাল আমি তাদের সমর্থনে যোদ্ধা পাঠিয়েছে।
একসময় আল-কায়দার শাখা ছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএস। তারা তাদের সাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে এবং খুব সম্ভবত নিজেদের মতাদর্শেও কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করেন রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ফেলো এইচ এ হেলিয়ের। তিনি বলেছিলেন, গত সপ্তাহে সিরিয়ার সুন্নি বিদ্রোহীদের সাফল্যের একটি বড় কারণ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে তাদের যত্নশীল হওয়া। যেমন বিদ্রোহীরা শিয়া মুসলিমদের গ্রামগুলোতে প্রবেশের সময় আক্রমণ নয় বরং আলোচনা করে একটি সমঝোতায় এসেছেন।


