রোববার সকালে রাখাইনের মংডু শহরের নিয়ন্ত্রণি নেয়ার দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। ২৭০ কিলোমিটার বাংলাদেশে-রাখাইন সীমান্ত অঞ্চলে এটি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি ছিল। দখলের পর নাফ নদের আরাকান জলসীমায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা। আরাকান আমির দাবি- তারা জান্তা বাহিনীর পাশাপাশি তাদের মিত্র আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। তারা ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছে।
আরাকান আর্মি গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে হামলা চালিয়ে রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৩টির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে মংডুতে হামলা শুরু করে। বাংলাদেশ সীমান্তের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর রাখাইনের মংডু, বুথিডং ও শিন এলাকার পালেতাওয়ার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। এখন দক্ষিণ রাখাইনের গাওয়া, তাউনগুপ ও আন শহর নিয়ন্ত্রণের লড়াই করছে। পর্যবেক্ষণকারী একজন সামরিক বিশ্লেষক বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারকে বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর সঙ্গে অর্থপূর্ণ সংলাপ করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পুনঃস্থাপন করলে জান্তার অবরোধের কারণে দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি রাখাইনবাসীর দুর্দশা কমবে।
মিয়ানমার জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহী গোষ্ঠী ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্য আরাকার আর্মি। ইতিমধ্যে এ গোষ্ঠী গত বছরের অক্টোবর থেকে হামলা চালিয়ে উত্তরের শান রাজ্যের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ বিষয়ে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘আমরাও বিভিন্ন গণমাধ্যমে শুনেছি আরাকান আর্মি মংডু শহরও দখলে নিয়েছে। এ নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত। এবার জান্তা সরকারের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে আরাকান আর্মির সেদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার শঙ্কা রয়েছে। কারণ, কেউ রোহিঙ্গাদের জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।’


