কয়েক দিন আগে পেট্রাপোল স্থলবন্দরের কাছে ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন’ বন্ধ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তির দাবিতে সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ভারত থেকে আলু ও পেঁয়াজ আসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এদিকে বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন ‘তাদের (ভারতের) রাজনৈতিক বক্তব্য যাই হোক, তাদের ব্যবসায়ীদের স্বার্থও দেখতে হবে।’ যে কারণে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন আহমেদ। ভারত থেকে সর্বশেষ অর্থবছরে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলার, তথ্য ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।
বাংলাদেশে রপ্তানিকারকদের তালিকায় চীনের পরেই ভারতের অবস্থান। কিন্তু, উল্লেখিত তিন পণ্য – আলু, পেঁয়াজ ও চালের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর আসলে নির্ভরশীল নয় বাংলাদেশ। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটি থেকে ১৭ লাখ মার্কিন ডলারের আলু আমদানি হয় বাংলাদেশে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন মতে, ওই অর্থবছরে বাংলাদেশে আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ মেট্রিক টন। দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম নয়।
তবু, ব্যবসায়ীরা আলু কোল্ডস্টোরেজে মজুদ করে দাম বাড়ানোয় সরকার আলু আমদানির দিকে যেতে বাধ্য হয়। দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বাংলাদেশে বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৭-২৮ লাখ টন। তবু এ বছরও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রায় ২০ কোটি ডলারের পেঁয়াজ-রসুন রপ্তানি হয়েছে। তথ্যের ঘাটতি না থাকলে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থায় তদারকি ঠিকমতো করা গেলে পেঁয়াজ আমদানি এড়ানো যেতো বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
২০২৩ সালে বাংলাদেশে আট কোটি ডলারের বেশি প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে ভারত।-জাতিসংঘের বাণিজ্য বিষয়ক ডেটাবেইজ বলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য – সর্বশেষ অর্থবছরে বাংলাদেশে চাল উৎপাদন হয় ৪ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম না হলেও মুল্যবৃদ্ধির কারণে কিছু চাল আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে। মজুদদারি ঠেকিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা মজবুত করা গেলে চালের মূল্যবৃদ্ধি বা যোগান সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব।
বিবিসি বাংলা থেকে সংক্ষেপিত।


