এগুলো ধ্রুপদি অর্থে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করছে না। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে থানা কমিটি পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না। দেখা যায়, সবকিছু একটা কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার আদেশে ঘটছে।
…রাজনৈতিক দলগুলো পরিপক্ব না হওয়ার কারণে জনগণকেই বারবার ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা নিরঙ্কুশ রাখতে চায়। ক্ষমতায় গেলে তারা অভাবনীয় কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠে। সংবিধানও তাদের সেই সুযোগটা দেয়। তারা দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের মধ্যেও ঢুকে যায়। এটা করার ফলে যা ঘটে, তাদের এমন কোনো নির্বাচন দিতে সাহস হয় না, যে নির্বাচনে তাদের পরাজয় ঘটে। …এই বিষাক্ত বৃত্ত থেকে বের হতে গেলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সংস্কার দরকার ছিল, যেটি হয়নি। সেই পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।
… এগুলো ধ্রুপদি অর্থে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করছে না। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে থানা কমিটি পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না। দেখা যায়, সবকিছু একটা কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার আদেশে ঘটছে। এক বা দু’দিনের কনফারেন্স হওয়ার পর নেতা বা নেত্রীকে কমিটি ঘোষণার এখতিয়ার দেওয়া হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো করপোরেট অফিসে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঠিক করে দিচ্ছে কোন কমিটি কেমন হবে। এমনকি কমিটির সদস্যপদ কেনাবেচাও হয়। এগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। … রাজনৈতিক দল যদি একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতো কিংবা চেষ্টা অব্যাহত রাখত, তাহলে রাষ্ট্রেরও গণতান্ত্রিক উত্তরণ সহজ হতো।
… তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাময়িক; স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। এই অবস্থা থেকে বেরোতে হলে বড় বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কার দরকার। সেই সংস্কারে এটা নিশ্চিত করতে হবে দলের কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ের কমিটি হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। নেতা-নেত্রীর মধ্যে অবসরের বয়সও ঠিক করে দেওয়া দরকার। আর দলগুলোর মধ্যে যেন ধর্ম-মত, নারী-পুরুষ সবকিছুর বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমি বলতে চাইছি, রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিকীকরণ ছাড়া দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টেকসই হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েই দীর্ঘমেয়াদে লাভ হবে না। দলের গণতান্ত্রিকীকরণ ছাড়া দেশের তত্ত্বাবধায়কে কাজ হবে না – দৈনিক সমকাল, ২২/১২/২০২৪


