আইনসিদ্ধ উপায় ব্যতীত আমার কোনো সম্পদ এসেছে , এমনটি বলার কোনো প্রমাণ নেই : পদত্যাগ পত্রে টিউলিপ ।
খালা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া একাধিক সম্পত্তিতে বসবাসসহ বেশ কিছু অভিযোগে সমালোচনার মুখে ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক । গতকাল যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে লিখেছেন ” … আপনি জেনেছেন , আমার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পুরো বিষয়ের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে (মন্ত্রিত্বের মানদণ্ডবিষয়ক আপনার স্বাধীন উপদেষ্টা) স্যার লাউরি নিশ্চিত করেছেন যে আমি মন্ত্রিত্বের বিধি (মিনিস্ট্রিয়াল কোড) লঙ্ঘন করিনি ।
তিনি উল্লেখ করেছেন , এমনটি বলার কোনো প্রমাণ নেই যে আমার যে সম্পদ রয়েছে বা যেখানে আমি বসবাস করেছি , সে বিষয়ে আমি অনুচিত কিছু করেছি । তা ছাড়া আইনসিদ্ধ উপায় ব্যতীত আমার কোনো সম্পদ এসেছে , এমনটি বলার কোনো প্রমাণও নেই । … তা সত্ত্বেও এটা স্পষ্ট যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ইকোনমিক সেক্রেটারি হিসেবে আমার দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়াটা সরকারের কর্মকাণ্ড থেকে মনোযোগ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে পারে। …সুতরাং আমি আমার মন্ত্রিত্বের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি । টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে স্যার কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রীসভার আচরণবিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন করেন স্যার লরি ম্যাগনাস ।
লরি ম্যাগনাস জানান , সরকারের দুর্নীতি প্রতিরোধ মন্ত্রী মন্ত্রীসভার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন এমন কোনো প্রমাণ তিনি পাননি , তবে তাকে পুরোপুরি নির্দোষ ঘোষণা করাও সম্ভব নয় । তিনি বলেন , টিউলিপ সিদ্দিক তার পরিবারের বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সম্ভাব্য সুনামের ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন না , যা ‘দুঃখজনক’ । ‘আমি এই ত্রুটিকে মন্ত্রীসভার নীতিমালা ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দিচ্ছি না , তবে আপনি এই পরিস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে চাইতে পারেন ,’ ম্যাগনাস উল্লেখ করেন ।
এই প্রতিবেদনের ছয় মাস আগেও ভোটারদের কাছে ‘নৈতিক সরকার’ এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া স্যার কিয়ার স্টারমারকে শেষমেশ কঠিন পথেই হাটতে বাধ্য হতে হয় । নিজের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও ব্যক্তিগত বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না তার কাছে।


