১৯৮৮ সালের পর রাষ্ট্রধর্মের বিষয়ে ব্যাপক বিরোধিতা কখনোই দেখা যায়নি ।
বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারে গঠিত কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ডালপালা মেলেছে । মূলনীতিগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিল এবং বহুত্ববাদ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টির পাশাপাশি ‘রাষ্ট্রধর্ম’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে কৌতূহল প্রকাশ করেছেন । সংবিধান সংস্কার কমিশন সাম্য , মানবিক মর্যাদা , সামাজিক সুবিচার , বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ।
‘বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি , বহু-ধর্ম , বহু-ভাষা ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে ,’ এই বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে কমিশনের তরফে । ‘বহুত্ববাদের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেক্যুলারিজমের চেয়ে বৃহত্তর মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছি আমরা । যেখানে দলিতদের জায়গা হবে , থার্ড জেন্ডার , এথনিক মাইনরিটি (জাতিগত সংখ্যালঘু) , রিলিজিয়াস মাইনরিটি (ধর্মীয় সংখ্যালঘু) সবার জায়গা হবে ।’ বিবিসি বাংলাকে বলেন সংস্কার কমিশন প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ ।
কেবল ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের নয় বাংলাদেশের সব বর্গের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই ‘বহুত্ববাদ’ বেছে নেয়া হয়েছে বলে দাবি তার । বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ বিবিসি বাংলাকে বলেন , ৫৩ বছর ধরে ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানে আছে কিন্তু এর তেমন কোনো কার্যকারিতা নেই । তবুও , মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার উপস্থিতি একটি ‘রক্ষাকবচ’ ও ‘শক্তি’ হিসেবে কাজ করে বলে অভিমত তার ।
অন্যদিকে , ধর্মনিরপেক্ষতার তুলনায় বহুত্ববাদকে অনেক বড় ‘ক্যানভাস’ বলে মানছেন তিনি । ‘তবে মুখের কথা বললেই তো হবে না । যেদিন প্রস্তাবনা দিল , সেদিনই আদিবাসী সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলো । পরালিজম কী হতে পারে তার প্রমাণ পাওয়া গেলো । এই বহুত্ববাদ একটি আইওয়াশ (ধোঁকা) ,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন কাজল দেবনাথ । বহুত্ববাদকে প্রাধান্য দেয়া প্রস্তাবের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টি নিয়ে সংস্কার কমিশনে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন , তারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে আলোচনা করেছেন ।
‘কিন্তু , ১৯৮৮ সালের পর রাষ্ট্রধর্মের বিষয়ে ব্যাপক বিরোধিতা কখনোই দেখা যায়নি । আমরা যেসব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছি তাদের প্রায় কেউই এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি ,’ বলছিলেন অধ্যাপক রীয়াজ । ‘হাজার হাজার লোক বলছে এটা রাখতে হবে । অর্থাৎ এর পক্ষে জনমত আছে । আমরা এই ফ্যাক্টগুলো বিবেচনায় নিয়েছি ,’ যোগ করেন তিনি।


