কমিটি সদস্যদের একাংশের আপত্তি উপেক্ষা করে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আলী আহসান জোনায়েদকে বর্ধিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। শুক্রবার সাধারণ সভায় যোগদানকারী একাধিক সূত্র জানায়, সদস্যদের একটি দল জোনায়েদের অন্তর্ভুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছিল। উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র জোনায়েদ ২০১৯ সালে শিবিরের ঢাবি ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আন্ডারগ্রাউন্ডে। নাগরিক কমিটিতে যোগদানের আগে তিনি শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের একজন ছিলেন, একটি সূত্র জানায়।
নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্থা শারমিন বলেছেন, ‘বর্ধিতকরণের সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মত ছিল’। তিনি বলেন, এটি বিভাজনের সময় নয় এবং তারা সমস্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী গ্রুপকে যুক্ত করতে চান। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে শিবিরের লোকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি অবশ্য বলেন, নাগরিক কমিটির একটি অবস্থান রয়েছে যে জামায়াত শিবিরকে দল হিসেবে ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা স্পষ্ট করতে হবে, যদি তারা রাজনীতিতে থাকতে চান।
শারমিন বলেন- বর্ধিত কমিটিতে সাবেক ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাংবাদিক, নারী, আদিবাসী প্রতিনিধিসহ সবধরনের মানুষ যুক্ত করা হয়েছে তাদের আদর্শগত অবস্থান নির্বিশেষে। সংশ্লিষ্টরা জানান, জোনায়েদ আড়ালে থেকে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্ধিত নাগরিক কমিটিতে এখন ১০৭ জন সদস্য রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৮-১০ জন সাবেক শিবির নেতা।
যোগাযোগ করা হলে জোনায়েদ জানান, তিনি ২০২০ সালে শিবির ছেড়ে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মূল সংগঠকদের সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল এবং আন্দোলনটি সরকারবিরোধী রূপ নিলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এতে অংশ নেন।


