ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে একের পর এক বাংলাদেশবিরোধী গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তা ক্রমাগত বেড়েছে। এএফপি বাংলাদেশ বুরোর প্রধান ফ্যাক্ট চেকার কদরুদ্দিন শিশির সমকালকে বলেছেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ইসলামী উগ্রপন্থার উত্থান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের হিন্দুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এমন বয়ান তৈরি করছে। যত সময় যাচ্ছে, গুজব তত ছড়াচ্ছে, সামাজিক মাধ্যম থেকে ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমে যাচ্ছে। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগের। এসব গুজব হলেও বাংলাদেশের বিষয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের হাতে বিলিয়ন ডলার রয়েছে, তারা মিথ্যা এবং অপতথ্য ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। তারা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রে বিরাট সংখ্যক ভারতীয় বংশোদ্ভূত রয়েছে। তাদের তৃতীয় প্রজন্ম প্রশাসন, ব্যবসাসহ অনেক জায়গা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। তারা এসব মিথ্যা ও অপতথ্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম। এর মোকাবিলায় শুধু সামাজিক মাধ্যমে ফ্যাক্ট চেক বা সরকারের বিবৃতি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন কদরুদ্দিন শিশির। তিনি বলেছেন, সরকারকে গুজবের উৎস চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভারতে নিউজ ব্রডকাস্টিং এবং ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি (এনবিডিএসএ) নামের স্বাধীন সংস্থা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান গত এক বছরে ভারতের অন্তত তিনটি শীর্ষ টিভি চ্যানেলকে শাস্তি দিয়েছে ভুয়া খবর প্রচারের দায়ে। বাংলাদেশ-সংক্রান্ত ছড়ানো ভুয়া খবর প্রচারের জন্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এনবিডিএসএর মুখোমুখি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ফ্যাক্ট চেকাররা। তারা বলছেন, কাজটি সরকারকেই করতে হবে। সরকারের হয়ে দিলির বাংলাদেশ হাইকমিশন করবে।
একাধিক অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক সমকালকে বলেছেন, ভারতকে বিশ্বের কাছে হাজারো নিরস্ত্র বাংলাদেশি হত্যার হুকুমদাতা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণ ও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে উত্তর দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় চাপ কমাতে, যে কোনো উপায়ে বাংলাদেশকে উল্টো চাপে রাখতে দিলি সংখ্যালঘু নিপীড়নকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করেছে বলে অভিমত বিশেষকদের। তাদের ভাষ্য, এ কারণেই বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে উগ্র ইসলামপন্থিদের উত্থান বলে দেখাতে চাচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত পশ্চিমা দেশের দুতাবাসের রাজনৈতিক বিভাগের এক কূটনীতিক সমকালকে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকার গঠনের পর বেশ কিছু শিল্প উদ্যোক্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসতে চেয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে তারা সফর বাতিল করেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বাংলাদেশের বিষয়ে ভীত। তারা মনে করছেন, এখানে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


