মানুষের মতই প্রাণীদের মধ্যেও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আছে নানা আচার। প্রাইমেটদের মধ্যে, বিশেষ করে বেবুন এবং শিম্পাঞ্জি তাদের মৃত বাচ্চার দেহ বহন করে। তাদের এই আচরণ মাতৃত্বের বন্ধনের প্রতীক। তবে, দেখা গেছে, গ্রুপের অন্যরাও মৃত বাচ্চাদের দেহ বহন করছে। মৃতের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন প্রানীরাও কেন মৃতদেহ বহন করে তার কারণ এখনও অস্পষ্ট। শিশু মৃতদেহ বহনের সময়কাল – প্রজাতি, শিশুর বয়স এবং অন্যান্য বিভিন্ন কারণের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে শিম্পাঞ্জিরা তাদের মৃত বাচ্চাকে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বয়ে নিয়েছে। এটি শুধু প্রাইমেটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হাতি, ডিঙ্গো এবং এমনকি সামুদ্রিক প্রাণী যেমন তিমির মধ্যেও শিশু মৃতদেহ বহনের ঘটনা আছে ।
২০১৮ সালে একটি ওর্কা প্রজাতির তিমি মা প্রায় ১৭ দিন ধরে তার মৃত বাচ্চাকে ডুবে যেতে না দিয়ে ঠেলে ঠেলে সমুদ্রের প্রায় ১,০০০ মাইল পাড়ি দিয়েছিলো। বাচ্চাদের মৃতদেহ বহনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাণী, যেমন জিরাফ, পেকারি, এবং শিম্পাঞ্জি প্রায়ই মৃতদেহ পাহাড়া দেয়। বিশেষ করে হাতিরা মৃতদেহ দেখতে যায় এবং শোক প্রকাশ করে। কিছু শিম্পাঞ্জিকে মৃতদেহ পরিষ্কার করতে দেখা গেছে, অন্যদিকে হাঁস ও পাখিরা তাদের মৃত সঙ্গী বা সাথীদের পাশে দীর্ঘ সময় বসে থাকে। তবে সব প্রজাতিই মৃতদের প্রতি এমন আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখায় তা নয়।
যেমন পিঁপড়া এবং টার্মাইট এর মতো কীটপতঙ্গরা তাদের কলোনির মৃত সদস্যদের দ্রুত সরিয়ে ফেলে বা কবর দেয়, যা তারা সম্ভবতঃ রোগের বিস্তার রোধ করার জন্য করে। একই ধরনের আচরণ মেলে ইঁদুরদের মধ্যেও, যারা মৃতদেহগুলিকে নির্দিষ্ট বর্জ্যস্তূপে রেখে দিয়ে আসে। এই আচরণগুলোকে আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া নয়, বরং টিকে থাকার বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। কাকেরা প্রায়শই তাদের মৃত প্রজাতির চারপাশে জড়ো হয়। তারা সম্ভবত বিপদের মূল্যায়ন বা অভিজ্ঞতা থেকে শেখার জন্য এটা করে। আবার কিছু প্রাণী আছে যারা তাদের কেউ মারা গেলে ওই মৃতদেহকে খেয়ে ফেলে। এ ধরণের আচরণগুলো আবেগ নয় বরং টিকে থাকার প্রবৃত্তি পরিচালিত।


