দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ায় সাইক্লোন আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠছে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার টাইফুনগুলি ইদানিং উপকূলের কাছেই তৈরী হচ্ছে, দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ডাঙায় থাকছে। এই পরিবর্তনের ফলে স্থলভাগে আঘাত হানার আগে টাইফুনগুলির কম দূরত্ব অতিক্রম করা লাগছে এবং যেসব এলাকায় আঘাত হানছে তারাও টাইফুন থেকে বাঁচার প্রস্তুতির জন্য সময় পাচ্ছে অনেক কম। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় টাইফুনগুলি এখন সমুদ্র থেকে বেশি তাপ ও আর্দ্রতা সংগ্রহ করতে পারছে। ফলে ঝড়ের বাতাসের গতি, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, এবং সামগ্রিক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাও বেড়ে যাচ্ছে। তদুপরি, টাইফুনগুলি এখন স্থলভাগে আঘাত করার পরও দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পারছে। আগে টাইফুনগুলো স্থলভাগে দ্রুত দুর্বল হয়ে যেত, কারণ তারা আর উষ্ণ সমুদ্রের জলের উপর নির্ভর করতে পারত না।

কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের স্তর বৃদ্ধি এবং ভূমির উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ঝড়গুলি দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখছে, যার ফলে উপকূলীয় এলাকার কৃষি এবং অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে। এই প্রবণতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলির জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে, বন্যা, ভূমিধস এবং অন্যান্য জলবায়ু সম্পর্কিত দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার জার্নালের এর সহযোগী জার্নাল ক্লাইমেট অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্স-এ। গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ), আর দুটি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি – রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ১৯ শতক থেকে ২১ শতকের শেষ পর্যন্ত সময়ব্যাপি ৬৪,০০০ এর বেশি মডেল করা ইতিহাসমূলক এবং ভবিষ্যতের ঝড়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মহাসাগরের তাপমাত্রা বাড়ছে, যা এশিয়ার দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথে পরিবর্তন নিয়ে আসছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৬৫০ মিলিয়নেরও বেশি মানু-ে ষর বাস এবং এই অঞ্চলের উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হলো দ্রুত শিল্পায়ন, বন ধ্বংস এবং কৃষিকাজ, এবং বড় জনসংখ্যা। শক্তির জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, উচ্চ হারে বন ধ্বংস এবং ধান চাষ ও পশুপালনের মতো কৃষিকাজ থেকে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। এছাড়াও, শহরায়ন এবং শিল্পায়নের ফলে বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মিথেন নির্গত হয়। সবকিছু একসাথে মিলে জলবায়ু পরিবর্তনকে দ্রুততর করছে, যার ফলে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আরও চরম আবহাওয়া দেখা দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক টাইফুনগুলি এই পরিবর্তনের ঝুঁকিগুলি প্রদর্শন করছে। যেমন, টাইফুন ইয়াগি, যার বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ২০৩ কিমি/ঘণ্টা, এটি উত্তর ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডে ব্যাপক ধ্বংস সাধন করেছে, যেখানে বহু কৃষিজমি এবং গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিয়েতনামে মারা গিয়েছে কমপক্ষে ২২৬ জন। জুলাই মাসে টাইফুন গাইমি ম্যানিলায় এবং তাইওয়ানের কাওশিয়াংয়ে বন্যা সৃষ্টি করেছে; এটি গত আট বছরে তাইওয়ানে আঘাত হানা টাইফুনের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ও অন্তত পাঁচজন মারা গেছে এবং শতাধিক আহত হয়েছে। এই ঘটনাগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকির গুরুত্বকে তুলে ধরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন