ভয়ের কি কোনো গন্ধ আছে? কেউ ভয় পাচ্ছে কি না তা কি আমরা নিজের অজান্তেই বুঝতে পারি? বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মানুষ ঘামের মাধ্যমে নিঃসৃত ফেরোমোনের গন্ধ থেকে অন্যের ভয় বা উদ্বেগ বুঝতে পারে। ডঃ লিলিয়ান মুজিকার দল নিউ ইয়র্কের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষায় ২০ জন নতুন স্কাইডাইভারদের আন্ডারআর্ম থেকে দুই বার ঘাম সংগ্রহ করে প্রথমবার স্কাইডাইভিং করার সময় এবং তুলনা করার জন্য পরেরবার ট্রেডমিলে দৌড়ানোর সময়। গবেষকরা এই ঘাম নেবুলাইজারে ট্রান্সফার করে স্বেচ্ছাসেবীদের শ্বাস নিতে বলেন। শ্বাস নেয়াকালীন সময়ে স্বেচ্ছাসেবীদের ব্রেইন স্ক্যান করা হয়।
পরীক্ষার আগে স্বেচ্ছাসেবীদের পরীক্ষার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পরীক্ষা দেখায় যে ‘ভয়ের ঘাম’ স্বাভাবিক ঘামের তুলনায় আমিগডালা এবং হাইপোথ্যালামাসের মতো ভয় সংক্রান্ত মস্তিষ্কের অংশগুলিকে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় করে তোলে। তবে, অংশগ্রহণকারীরা দুই ধরণের ঘামের মধ্যে সচেতনভাবে কোনো পার্থক্য ধরতে পারেনি। এই গবেষণার ফল বিতর্কিত কারণ বেশিরভাগ গবেষক মনে করেন যে মানুষ ফেরোমোন সনাক্ত করতে সক্ষম নয়। অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীরা নাকের ভোমেরোনাসাল অর্গানের মাধ্যমে ভয় সনাক্ত করতে পারে। যদিও মানুষেরও এই অর্গানটি রয়েছে, কিন্তু এটি ব্রেইনের সাথে যুক্ত নয়।
এই গবেষণাটি পেন্টাগনের সামরিক গবেষণা শাখা US Defence Advanced Research Projects Agency – DARPA অর্থায়ন করে। ফলে অনেকেই সন্দেহ করছেন, এটি ভয়ের ফেরোমোন আলাদা করার প্রথম ধাপ, যা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রু সৈন্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ব্যাবহার করে যাবে। তবে DARPA এই ধারণা নাকচ করে দিয়েছে এবং বলেছে, তাদের ভয়ের ফেরোমোন ব্যবহার করার কোনো সামরিক পরিকল্পনা নেই, এবং তারা এ বিষয়ে কোনো অতিরিক্ত গবেষণা তহবিল দেবেনা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভয়াবহ পরিস্থিতি ছাড়া শুধু কেমিক্যাল-ফিজিক্যাল রেসপন্স দিয়ে মানুষ ভয় পাবে না।


