সমুদ্র-বাণিজ্যের ৯২% হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর এ বন্দর থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে নির্মাণ করা হয়েছে বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। চালুর পর নিজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মিটিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যয়বহুল ড্রেজিংয়ের কাজ কতটা সামলাতে পারবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর মোংলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছর জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৮৪৬টি। সব মিলিয়ে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩১৯ কোটি টাকা।বিপরীতে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল খননকাজে চলমান প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প। পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভীরতা ধরে রাখতে প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পর পর দরকার হবে ব্যয়বহুল ড্রেজিং প্রকল্পের।
আরেক সমুদ্রবন্দর পায়রায় বার্ষিক আয় হয় কমবেশি ৩০০ কোটি টাকা। এক বছর আগে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল ড্রেজিং করা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে চ্যানেলটির নাব্যতা কমে গিয়ে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বড় জাহাজ চলাচলের। বন্দরসংশ্লিষ্টরা পুনরায় ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহণের কথা বলছেন। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য এরই মধ্যে ১৪.৩ কিলোমিটার নৌ-চ্যানেল তৈরি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লাবাহী জাহাজও এই চ্যানেল ব্যবহার করবে। ১৮ মিটার গভীর ও ৩৫০ মিটার প্রশস্ত চ্যানেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। গভীরতা ধরে রাখতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হবে।
জাপানী সংস্থা জাইকার জরিপ প্রতিবেদন বলছে, মাতারবাড়ী বন্দর চ্যানেলে প্রতি বছর ৫০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হবে। প্রতি ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের সর্বনিম্ন ব্যয় ৫ ডলার হিসাবে প্রতি বছর চ্যানেলটি ড্রেজিং করতে খরচ হবে বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাতারবাড়ী বন্দর চ্যানেলে খুব বেশি ড্রেজিং প্রয়োজন হবে না।মাতারবাড়ীতে গভীরতা বেশি সেডিমেন্টের অত প্রভাব নেই।’ চট্টগ্রাম বন্দরে ‘বে-টার্মিনাল মেরিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পে জুনে ৬৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক যার সিংহভাগ ব্যয় হবে টার্মিনালের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজে।
বে-টার্মিনাল প্রকল্পে কেবল ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের বিষয়টিই আলোচনায় এসেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো জরিপ হয়নি। এ বন্দর চ্যানেল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কী পরিমাণ ড্রেজিং করতে হবে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক যে লোনটা দেবে সেটা মূলত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের জন্য। তবে আমাদের কথা থাকবে যাতে এখানে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং অন্তর্ভুক্ত হয়।’ নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাতারবাড়ী বন্দরটি গভীর সমুদ্রের কাছে। এটা ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাবে। তবে দেশের জন্য মাতারবাড়ী ছাড়া অন্য সমুদ্রবন্দরগুলো বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’


