জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন বাস্তবতা। এই ঝুঁকিকে শুধু কমপ্লায়েন্স ইস্যু না ভেবে ব্যবসায়িক কৌশলগত সমস্যা হিসেবে দেখা দরকার। এর ফলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম’ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা কোনো বোঝা নয়, বরং উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ব্যবসায়িক সুযোগ-আমি এভাবে ভাবি। সস্তা শ্রম বাংলাদেশের জন্য এখন আর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নয়। উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা যদি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করি তাহলে সফল হতে পারব না।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে শুধু ঝুঁকি নয়, সম্ভাবনাও আছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা সুযোগগুলো উন্মুক্ত করছে। এতে ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের পরিমাণ কম, মাত্র ২ শতাংশ। এটিকে আরও বাড়াতে হবে। টেকসই ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে বৃহত্তম ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি।’ প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘কীভাবে পণ্য উৎপাদন হচ্ছে, তা উদ্যোক্তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে কম খরচে পণ্য উৎপাদন করাটাই বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তন একটি বাস্তব ঝুঁকি, যা অবশ্যই মনে রাখা দরকার।’
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের (বিএই) উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তৈরি পোশাকশিল্পে পরিবেশসম্মত টেকসই উন্নয়নের পথ ত্বরান্বিত করতে দিনব্যাপী সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারের প্রতিনিধি, জলবায়ুবিশেষজ্ঞ, বিদেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সাড়ে চার শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। সম্মেলনটি আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট, ক্যাসকেল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জিআইজেড, এইচঅ্যান্ডএম, ঢাকায় নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস, পিডিএস ও টার্গেট।


