বরিস বিশ্বাস করেন যে ট্রাম্পের আচম্বিত আচরণের প্রবণতাই যথেষ্ট ছিল একটি সার্বভৌম দেশের সাথে যুদ্ধে যাওয়ার ঝুঁকি নেয়া থেকে পুতিনকে নিরস্ত করতে। দ্য টেলিগ্রাফের সাথে একান্ত আলাপে প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন ‘ক্রেমলিনের জন্যে, একটি সত্যিকারের ঝুঁকি ছিল, যে ট্রাম্প একটি ইউরোপীয় দেশের উপর আক্রমণকে আমেরিকা এবং বিশ্ব-ব্যবস্থার প্রতি অবমাননা হিসাবে দেখবেন এবং কঠিন জবাব দেবেন।’ ট্রাম্প কখনই বলতে দ্বিধা করেন না, যে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণগুলি তাঁর মেয়াদের আগে অথবা পরে হয়েছে, তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন নয়।’ জনসন মনে করেন না এটা কাকতালীয়।
বরিস বলেছেন – ‘ট্রাম্পের অন্যতম গুণ হল তার আচরণের নিরেট আকস্মিকতা। এটিও একটি কারণ যার জন্যে আমি নজর রাখি উনি আন্তর্জাতিক বিষয়ে কেমন আচরণ দেখান এবং এই জায়গায় অন্যদের সাথে আমার অভিমত আলাদা।’ ‘ট্রাম্প ৬০ জন রাশিয়ান গুপ্তচরকে বহিষ্কার করেছিলেন [স্যালিসবারির বিষক্রিয়ার পরে]। তিনি সিরিয়ার বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ছিলেন। তিনি ইরানি বিপ্লবী গার্ড কর্পস এর প্রতি ছিলেন আরও কঠিন এবং তিনি ইউক্রেনীয়দের জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছিলেন।’
ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি নিয়ে ইউক্রেন উদ্বিগ্ন হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে জনসন বলেন – ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা বুঝব, ইউক্রেনের লড়াই ইউরোপে স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন এবং ইউক্রেনের পতন হবে একটি চরম বিপর্যয়। এবং তিনি সেটা বোঝেন।’
‘আমি মনে করি না, যে তিনি ইতিহাসে সেই নাম হতে চান যিনি আমেরিকাকে নয়, সোভিয়েত ইউনিয়নকে আবার মহান করে নিজের রাষ্ট্রপতিত্বের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেন।’ ‘সকল প্রতিষ্ঠানের একজন নেতা প্রয়োজন। বিশ্বে আমেরিকাই নেতা। আমার দৃষ্টিতে, বিশ্ব একটি সুখী আর সমৃদ্ধ স্থান যখন আমেরিকা শক্তিশালী ও তার নেতা শক্তিশালী এবং যখন বিশ্ববাসী মনে করে যে কোনও এক ধরণের শৃঙ্খলা বজায় আছে।’


