বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি সংস্কারের জন্মদাতা দল, এবং সংস্কারের মধ্য দিয়েই এর জন্ম হয়েছে।’ তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রদত্ত ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যেই সব ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।’
গতকাল গাজীপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ’র নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এই বক্তব্য দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু মহল ইউটিউব ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে বিএনপি সংস্কার মানে না। তবে বিএনপির ইতিহাস এবং কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে যে, এই দল সর্বদা সংস্কারের পথেই এগিয়েছে। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংস্কারের পথ দেখিয়েছিলেন। এরপর বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসী নতুন স্বাধীনতা পেয়েছে এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কাজ করছে। তারা অর্থনীতি ও প্রশাসনে স্থিতি ফেরানোর চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। দলের নেতা খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন কারাবন্দি এবং তারেক রহমান ১৮ বছর ধরে বিদেশে আছেন। তাদের এই ত্যাগ গণতন্ত্রের জন্য অনন্য। নির্বাচনের পথে নানা প্রতিবন্ধকতা এসেছে, কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করতে হবে।’
মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে ঘরে ঘরে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালাতে হবে। এছাড়াও যারা ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তাদের ক্ষমতায় আসা যেন কখনও সম্ভব না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।’
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য বিএনপির সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে পুনর্ব্যক্ত করে এবং দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়।


