বিশ্বনেতারা অধ্যাপক ইউনূসকে সমর্থন ও বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতারা বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক উদ্ভাবক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে চলমান অস্থায়ী সরকারের কার্যক্রম এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা।

সাক্ষাতে অংশগ্রহণকারী নেতারা অধ্যাপক ইউনূসের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক ন্যায়ের জন্য আজীবন সংগ্রামের প্রশংসা করেছেন। তারা একমত হয়েছেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছি এবং আপনাদের পাশে আমরা সম্পূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ।’ তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করতে আগ্রহী।

লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবার্গারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অধ্যাপক ইউনূসের হোটেল স্যুইটে উপস্থিত হয়। উক্ত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পোহোর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রাক্তন সভাপতি শার্ল মিশেল এবং বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও মৌরিতানিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানসহ একাধিক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এছাড়া কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের সভাপতি কেরি কেনেডি এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও সাক্ষাতে অংশগ্রহণ করেন।

বিশ্বনেতারা অধ্যাপক ইউনূসের কর্মকাণ্ডে একজোট হয়ে সমর্থন জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশে দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক ন্যায়ের উন্নয়নের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, অতীতের দুর্নীতি ও শোষণের পর বাংলাদেশ এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এবং এই সময় দেশকে স্থিতিশীল ও উন্নত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দক্ষতা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সহায়তা প্রদান অপরিহার্য। কেরি কেনেডি বিশেষভাবে বাংলাদেশের মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আপনারা মানবাধিকারে যে সাফল্য অর্জন করেছেন তা সত্যিই অসাধারণ।’

জর্জটাউন ইনস্টিটিউট শিগগিরই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানাবে বলে ঘোষণা দেন নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ার। নিজামী গঞ্জাভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন বলেন, ‘যখনই আমাদের প্রয়োজন হবে, আমরা আছি।’

অধ্যাপক ইউনূস সাক্ষাতের সময় সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘এটি আমার কল্পনার বাইরে। আপনাদের এভাবে একসঙ্গে দাঁড়ানো আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য এবং গভীরভাবে স্পর্শকাতর।’ তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি দীর্ঘ ভূমিকম্পোত্তর পুনর্গঠনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে এ দেশ একটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো ধাক্কা সহ্য করেছে। মানুষ রাতারাতি অলৌকিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে, অথচ আমাদের সামর্থ্য সীমিত। তবে তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে—তারা নতুন বাংলাদেশ খুঁজছে।’

অধ্যাপক ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘আপনাদের দিকনির্দেশনা, সমর্থন ও নৈতিক শক্তি আমাদের জন্য অমূল্য হবে।’ এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতি সমর্থন ও বিশ্বাসের একটি সুস্পষ্ট প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন