অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফশৈল এ২৩এ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীনতম হিমশৈলগুলোর একটি, এই আইসবার্গ দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে একাধিক টুকরোতে বিভক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে (বিএএস)। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, একসময়ের অটল ও বিশাল এ হিমশৈলটি ভাঙনের মুখে পড়েছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।
এ২৩এ অ্যান্টার্কটিকার ফিলচনার আইসশেলফ থেকে প্রথম বিচ্ছিন্ন হয় ১৯৮৬ সালে। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এটি সমুদ্রতলে আটকে যায় এবং দীর্ঘ সময় স্থির থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাসমান বরফখণ্ডে রূপান্তরিত হয়। শুরুতে হিমশৈলটির আয়তন ছিল প্রায় ৩,৯০০ বর্গকিলোমিটার যা একটি ছোট দেশের সমান। তবে সমুদ্রের পানির ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা এবং বাতাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমশৈলটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এটি ভেঙে একাধিক বিশাল টুকরোতে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এ২৩এ-এর ভাঙন প্রাকৃতিক ঘটনা নয় এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিফলন। অ্যান্টার্কটিকার বরফশৈলগুলো বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের বরফভূমি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের হিমশৈল ভেঙে পড়তে পারে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ত্বরান্বিত ভূমিকা রাখবে।
বিএএস-এর গবেষকরা বলছেন, অ্যান্টার্কটিকার বরফশৈলগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ২৩এ-এর ভাঙন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা গভীর এবং সুদূরপ্রসারী হতে পারে তার একটি বাস্তব উদাহরণ।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে অ্যান্টার্কটিকার স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, জল পরিবহন ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বসতি সবই হুমকির মুখে পড়তে পারে।


