Department of Defense’ এর নাম বদলে হল ‘Department of War’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পেন্টাগনের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুক্রবার বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের পরিচয় ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ নামে পরিচিত হতে যাচ্ছে।এই পরিবর্তন প্রতীকীভাবেই প্রশাসনের মনোভাব প্রতিফলিত করছে, যা প্রতিরক্ষার পরিবর্তে যুদ্ধ ও শক্তি প্রদর্শনের ভাষাকে গুরুত্ব দেয়।

শুক্রবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে পেন্টাগনকে পুনরায় ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ নাম দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অবসান করা হয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ছিল পারমাণবিক ধ্বংসের বিরুদ্ধে মূল প্রতিরক্ষা হিসেবে রক্ষা ও নির্ধারক অবস্থান। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন এক ধরনের মনোভাবের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে, যা কেবল প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

ওভাল অফিসে আয়োজন করা এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “এটা মূলত মনোভাবের ব্যাপার। আমরা জিততে চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ জিতেছি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জিতেছি, তার আগে এবং এর মধ্যে সব যুদ্ধই আমরা জিতেছি। তারপর আমরা দুর্বল হয়ে গিয়েছিলাম এবং নাম পরিবর্তন করেছিলাম ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স’-এ।”

নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেট এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরকারি চিঠিপত্রে ‘সেক্রেটারি অফ ওয়ার’ শিরোনাম ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ট্রাম্প হেগসেটকে আরও সুপারিশ করতে বলেছেন কীভাবে এই পরিবর্তন স্থায়ী করা যায়। হেগসেট অনুষ্ঠানে বলেন, “আমরা কেবল প্রতিরক্ষায় থাকব না, আমরা আক্রমণে যাব। সর্বাধিক প্রভাবশালী, সীমাহীন কার্যকরতা, রাজনৈতিক সঠিকতা নয়। আমরা কেবল রক্ষাকারী নয়, যোদ্ধাদেরও উত্থান ঘটাব।”

ইতিহাসে প্রতিটি নাম পরিবর্তনই আইনসভার মাধ্যমে হয়েছে। ১৭৮৯ সালে কংগ্রেস দ্বারা তৈরি ওয়ার ডিপার্টমেন্ট থেকে ১৯৪৭ সালে ন্যাশনাল মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্ট, আর ১৯৪৯ সালে ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স নামকরণ করা হয়েছিল। শুক্রবারের এই পুনঃব্র্যান্ডিংকে সমর্থন করার জন্য কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য দ্রুত একটি বিল প্রস্তাব করেছেন। তবে প্রশাসন সম্ভবত আইনসভার অনুমোদনের বাইরেও এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে, যেমনটি পূর্বে করা হয়েছে জরুরি ক্ষমতা বা বিদেশী সহায়তা স্থগিত রাখার মাধ্যমে। বর্তমানে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ নামটি কেবল ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স’-এর একটি “দ্বিতীয়” শিরোনাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শুক্রবারের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেন্টাগনের সামাজিক মাধ্যমগুলিতে পুনঃব্র্যান্ডিং কার্যকর করা হয়। ডিফেন্স বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং X (পূর্বের টুইটার) একাউন্টগুলোতে ধীরে ধীরে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ নাম এবং সীল ব্যবহার করা শুরু হয়। তবে এ ধরণের লেবেলগুলোর ব্যবহার এখনও আইনি পরিচয় বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। যেমন ইউটিউব চ্যানেল, অন্যান্য সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এখনও মূল ‘ডিফেন্স’ নাম ধরে রেখেছে।

এই পরিবর্তনের পরিধি কতদূর বিস্তৃত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি সরকারের জন্য বহু কোটি, সম্ভবত বিলিয়ন ডলারের ব্যয় বহন করবে। কারণ পেন্টাগনের প্রতিটি সাইন, লোগো, ইউনিফর্ম, কম্পিউটার সিস্টেম এবং অফিসিয়াল কাগজপত্র বিশ্বজুড়ে পরিবর্তন করতে হবে। পূর্বে কনফেডারেসি সম্পর্কিত সামরিক স্থাপনা পরিবর্তনের জন্য প্রায় ৩৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছিল এবং এটি কেবল নয়টি ঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত করেছিল। পেন্টাগনের রিয়েল প্রপার্টি পোর্টফোলিওতে রয়েছে শত শত হাজার স্থাপনা, বড় ঘাঁটি থেকে ছোট আউটপোস্ট পর্যন্ত।

এই পুনঃব্র্যান্ডিং রাজনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা নীতি উভয়ের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী সংকেত পাঠাচ্ছে। এটি প্রশাসনের মনোভাবের প্রতিফলন, যা প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শক্তি প্রদর্শন ও আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করছে। তবে এটি বাস্তবায়ন ও খরচের ক্ষেত্রে সরকার এবং ট্যাক্সপেয়ার উভয়ের জন্যই একটি জটিল এবং ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন