কাবুলের অনেক পরিবার এখন প্রতিদিনের পানি সংগ্রহের জন্য শহরের ধুলোঝরা গলিপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাতরায় দাঁড়াতে বাধ্য। একসময় স্বয়ংসম্পূর্ণ কূপ থেকে পানি সরবরাহ পেত পরিবারগুলো, কিন্তু আজ সেই উৎস শুকিয়ে গেছে। ফলে বহু পরিবারকে সম্প্রদায়ভিত্তিক নলের কাছে লাইনে দাঁড়াতে হয় অথবা ব্যয়বহুল ট্যাঙ্কার দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আফগানিস্তানে খরা এবং অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাবুলকে এশিয়ার সবচেয়ে পানিসঙ্কটগ্রস্ত শহরের মধ্যে গণ্য করা হচ্ছে। পানি সংকট শুধু দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে না, এটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সমতার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া ব্যাহত হচ্ছে, আর দুর্বল স্বাস্থ্য পরিস্থিতি যেমন অপুষ্টি ও সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কাবুলে ভূ-জলের পরিস্থিতি দারুণ উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে শহরের ভূ-জলের স্তর ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। কেবল কাবুল নয়, দেশের অন্যান্য শহরও দ্রুত পানি সংকটে ভুগছে। এই সংকট সামাজিক বৈষম্যকেও তীব্র করছে। ধনী পরিবাররা গভীর ব্যক্তিগত কূপ খনন করতে পারলেও, দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে ট্যাঙ্কারভর্তি পানি সংগ্রহে।
শহরের নলের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের মধ্যে চাপ, উত্তেজনা এবং শারীরিক দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। তীব্র গরমে হঠাৎ মাথা ঘোরা, অসুস্থতা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পরিবারগুলো দিনে ছয় থেকে সাতবার পানি সংগ্রহ করতে বের হয়। এ ধরনের নিয়মিত পরিশ্রম পরিবারের আয়ের ওপরও প্রভাব ফেলেছে, অনেকেই তাদের কাজ বা ব্যবসা বন্ধ করে শিশুদের সাহায্য করতে বাধ্য হচ্ছে।
পানির নিরাপত্তা এবং মানের সমস্যাও গুরুতর। অনেক পরিবারকে জলা পানি নিরাপদ করার জন্য একাধিকবার ফুটাতে হয়, তবুও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলে নদী বা কূপ পুনর্নির্মাণে সহায়তা করছে না এবং নদীর শীতল পানির স্তরও বছরের বেশির ভাগ সময় শূন্য থাকে।
শহরের জনসংখ্যা গত দুই দশকে ছয় মিলিয়নের বেশি হয়েছে, কিন্তু পানির অবকাঠামোর বিনিয়োগ তা অনুসরণ করতে পারেনি। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, ফলে মানুষ কূপ বা ব্যয়বহুল ট্যাঙ্কারের ওপর নির্ভর করছে। অনেক নল এবং গভীর কূপও এখন শুকিয়ে গেছে, যেগুলো পূর্বে পানি সরবরাহে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য হতো।
বিশ্বব্যাপী সংস্থাগুলো সতর্ক করছে চলমান খরা, জলবায়ু ধাক্কা এবং জনসংখ্যার স্থানান্তর কাবুলকে কয়েক বছরের মধ্যেই পানির সম্পূর্ণ সংকটে ফেলে দিতে পারে। এটি কেবল দৈনন্দিন জীবনের ঝুঁকি নয়, বরং শহরের স্থায়ী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার ওপরও হুমকি।
এই সংকট মোকাবেলায় অবিলম্বে অবকাঠামো উন্নয়ন, পানির সংরক্ষণ এবং নীতি প্রণয়নের প্রয়োজন। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে কাবুলের নাগরিকরা প্রতিদিনের পানি সংগ্রহের জন্য প্রতিনিয়ত বিপদের সম্মুখীন হবে, আর শহরের স্বাভাবিক জীবন ও শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হবে।


