ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণে দেখা দিচ্ছে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট

AI এবং ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অনুমোদিত ডেটা সেন্টারগুলো বছরে প্রায় ৯.৬ গিগালিটার পানি ব্যবহার করতে পারে, যা সিডনি শহরের মোট পানির সরবরাহের প্রায় ২%।

ডেটা সেন্টারগুলো শুধুমাত্র পানি ব্যবহার করছে না, বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপরও বিশাল চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারগুলো ২০২৪ সালে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ১.৫% ব্যবহার করেছে, যা প্রায় ৪১৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা (TWh)। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯৪৫ TWh পৌঁছাতে পারে।

সিডনিতে ২০২১ সাল থেকে সরকার মোট ১০টি বড় ডেটা সেন্টারের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট বিনিয়োগ প্রায় ৬.৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। তবে এই প্রকল্পগুলোতে পানি সংরক্ষণের কার্যকর পরিকল্পনার অভাব দেখা গেছে। কিছু কোম্পানি, যেমন AirTrunk ও Amazon,বৃষ্টির পানি বা পুনর্ব্যবহৃত পানি ব্যবহার করছেন। কিন্তু এই উদ্যোগও সামগ্রিক ব্যবহারের মাত্র ০.৪% হ্রাস করতে সক্ষম।

ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণ পানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যদি এই ধরনের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকে, তাহলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে, যা সাধারণ মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।”

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেটা সেন্টারের শক্তি ও পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফট উইসকনসিনে একটি নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের সময় পরিবেশবান্ধব কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করবে এবং পানি ব্যবহারের পরিমাণ কম রাখবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হলে কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। শক্তি ও পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো, পুনর্ব্যবহৃত পানি ব্যবহার করা এবং পরিবেশবান্ধব কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা আবশ্যক। ডেটা সেন্টারের পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নে এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে শহরের পানির চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সিডনির পানি সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষও সতর্ক করে বলেছে, ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে শহরের পানি ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে। ভবিষ্যতে যদি পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না করা হয়, তাহলে সাময়িক জলাভাব বা সরবরাহে ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমস্যা সমাধান করতে সরকার, ডেটা সেন্টার অপারেটর ও প্রযুক্তি নির্মাতাদের মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শক্তি এবং পানি ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন