সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটিতে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ৫ অক্টোবর সিরিয়ায় নতুন পার্লামেন্ট বা গণপরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ গত বছরের শেষের দিকে বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে দেশ ত্যাগ করলে তার দীর্ঘকালীন শাসনের অবসান ঘটে। নতুন নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, নির্বাচন দেশের সকল নির্বাচনী জেলায় অনুষ্ঠিত হবে। পার্লামেন্টে মোট ২১০ আসন থাকছে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ আসন সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা নিয়োগ দেবেন। বাকি আসনগুলো নির্বাচিত হবে স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে, যা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।
নতুন পার্লামেন্টের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নতুন আইন প্রণয়ন, বিদেশি চুক্তি অনুমোদন এবং দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির সংস্কার। সানা আরও জানিয়েছে, পার্লামেন্ট একটি ‘বিস্তৃত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি’ গড়ে তুলবে।
তবে সমালোচকরা মনে করছেন, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা সিরিয়ার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারছে না। মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণে সেপ্টেম্বর মাসে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বিশেষ করে সুয়াইদা, হাসাকা ও রাক্কা প্রদেশে ভোট স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সুয়াইদায় জুলাই মাসে দ্রুজ যোদ্ধা এবং সুন্নি বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। অন্যদিকে হাসাকা ও রাক্কা এখনো আংশিকভাবে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট আল-শারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সাংবিধানিক ঘোষণা জারি করেন। এতে ইসলামি আইনকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে এবং নারীর অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে বিরোধীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই কাঠামো সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছে।
আহমেদ আল-শারা এক সময় আল-কায়েদার কমান্ডার ছিলেন এবং হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে আল-আসাদ পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা আলোচনার মাধ্যমে সরকারকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় এক মিডিয়াকে তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনা অবশ্যক, তবে কোনো চুক্তিই সিরিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা না করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।


