বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত দুটি রাজনৈতিক দল, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একীভূত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে বলে রাজনৈতিক মহলে খবর পাওয়া গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো ঘোষণা আসেনি। গত তিন সপ্তাহ ধরে দলগুলোর শীর্ষ ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনায় দুই দলের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া, নেতৃত্ব কাঠামো এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদ ২০২১ সালে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এনসিপি ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তরুণ নেতৃত্বে গড়ে ওঠে, এখনও নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাননি। তবে উভয় দলই মূলত তরুণ ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে উভয় দলের নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেছে। বিশেষ করে নুরুল হক নূরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপির অন্যান্য নেতারা আন্দোলনের বিভিন্ন মঞ্চে একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উভয় দলের একীভূতকরণের আলোচনা নির্বাচনের পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। তরুণদের বিভাজনের কারণে সাম্প্রতিক ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে উভয় দলের সমর্থিত প্যানেল ভরাডুবি করেছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “তরুণরা যখন বিভাজিত থাকে, তারা সফল হতে পারে না। গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে কারণ আমরা সবাই মিলে কাজ করেছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন একইভাবে গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি একসাথে কাজ করলে নতুন রাজনৈতিক শক্তি সৃষ্টি হবে।
বৈঠকে দুই দল একীভূত হলেও শীর্ষ নেতৃত্বে কারা থাকবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে নাহিদ ইসলাম ও নুরুল হক নূর নেতৃত্বের শীর্ষে থাকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আখতার হোসেনসহ কিছু গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকেও সামনে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দলের নামের বিষয়েও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, উভয় দল বা নতুন কোনো নামে আত্মপ্রকাশ করতে পারে দলটি।
দুই দল একসাথে কাজ করার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের ব্যানার ও অন্যান্য সবকিছু ডিজলভ করা হবে এবং নেতা-কর্মীরা এনসিপির কাঠামোয় যোগ দেবেন। এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কালেক্টিভ লিডারশিপে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে এবং দক্ষতা অনুযায়ী পদ বন্টন করা হবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় রাজনীতিতে কোনো অংশগ্রহণ করা হবে না এবং স্টেট কোনো ধর্মের অধিকারপ্রাপ্ত হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন জোট তৈরি করা স্বাভাবিক। উভয় দলের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও আন্দোলনে যুক্ত। গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল এনসিপি রাজনৈতিক মাঠে আত্মপ্রকাশের পরও বিভিন্ন দুর্নীতি ও স্ক্যান্ডালের কারণে কিছুটা হতাশার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে নুরুল হক নূরের রাজনৈতিক ইমেজ এনসিপি কাজে লাগাতে চাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে বড় দলের সঙ্গে সমঝোতা বা জোটের মাধ্যমে কিছু আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। দুই দলের একীভূতকরণের ফলে তরুণ নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক শক্তি গঠিত হবে এবং সমন্বিতভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই একীভূতকরণ তরুণ রাজনৈতিক শক্তিকে সংহত করবে এবং বিভাজন দূর করবে।


