শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির কাজ সম্পর্কে কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করছেন, কালোটাকা কি সাদা করে দেবেন। আমরা বলছি, তা নয়। কিন্তু টাকা কেন কালো হয়, এটা বোঝা। অনেকে মনে করছেন, আমরা বোধহয় চোর-বাটপার ধরতে নেমেছি। কিন্তু বিষয়টা এমন নয়। আমরা চোর ধরতে নয়, চুরির প্রক্রিয়া বুঝতে নেমেছি। যাতে এরকমভাবে আগামী দিনে আর কোনো চুরি না হয়। এটি হলো আমাদের মূল কাজ। আর যেসব চুরিগুলো হয়েছে, সেগুলো কেমন করে হয়েছে, কী পরিমাণে হয়েছে, এর সম্ভাব্য ফলাফল কী, এই ফলাফল কে কীভাবে আটকানো যায়-এসব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি।’ বুধবার বিকেলে সিলেটে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রথম আঞ্চলিক মতবিনিময় সভায় কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি, এত উন্নয়ন হলো তবে কর আহরণ বাড়ল না কেন? করের টাকা গেল কই? এত উন্নয়ন হলো, তাহলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ হলো না কেন? আর বিনিয়োগ হয়ে থাকলে কর্মসংস্থান হলো না কেন? শুধু কর্মসংস্থানের জন্য এত লোক বিদেশে পাঠাতে হয় কেন? এতই যদি উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে অতি দারিদ্র্য কমল না কেন? বৈষম্য কমল না কেন?’ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এসব চিন্তার মধ্যে একটা বড় বিষয় ছিল, যেসব তথ্য উপাত্ত সরকার দেয়, সেগুলো ঠিক কি না। বর্তমান সময়ের অন্যতম দুটি দাবি হলো বৈষম্য দূরীকরণ ও সংস্কার। এ দুটি বিষয় বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্যের স্বচ্ছতা দরকার। এ স্বচ্ছতা আনার জন্য আমাদের এই শ্বেতপত্র কমিটি গঠন হয়েছে।’


