জনস হপকিন্স মেডিসিনের গবেষকদের একটি যুগান্তকারী গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শর্করার প্রলেপযুক্ত প্রোটিন (sugar-coated protein) মস্তিষ্কের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়, যা অ্যালজাইমার রোগের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে পারে। এই প্রোটিনটি মস্তিষ্কের ‘পরিষ্কারক দল’ হিসেবে পরিচিত মাইক্রোগ্লিয়া কোষের কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে অ্যামাইলয়েড এবং টাউ-এর মতো বিষাক্ত প্রোটিন জমা হতে থাকে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।
গবেষকরা অ্যালজাইমার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের টিস্যু পরীক্ষা করে একটি বিশেষ গ্লাইকোপ্রোটিন চিহ্নিত করেছেন, যার নাম RPTP zeta S3L। এই প্রোটিনের শর্করা অংশকে বলা হয় sialylated keratan sulfate, যা মস্তিষ্কের CD33 নামক রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাইক্রোগ্লিয়ার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। যখন CD33 অতিরিক্ত সক্রিয় হয়, তখন মস্তিষ্ক থেকে ক্ষতিকর পদার্থ পরিষ্কার করার ক্ষমতা কমে যায়। গবেষকরা দেখেছেন, এই RPTP zeta S3L প্রোটিনটি সুস্থ মস্তিষ্কের তুলনায় অ্যালজাইমার আক্রান্ত মস্তিষ্কে দ্বিগুণেরও বেশি পরিমাণে উপস্থিত ছিল।
শর্করার প্রলেপযুক্ত এই প্রোটিন CD33 রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মস্তিষ্কের ‘পরিষ্কারক দল’কে অকার্যকর করে দেয়। এর ফলে অ্যামাইলয়েড এবং টাউ প্রোটিন জমা হতে থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করে এবং রোগের অগ্রগতি ঘটায়।
এই গবেষণা অ্যালজাইমার রোগের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যদি বিজ্ঞানীরা কোনোভাবে RPTP zeta S3L প্রোটিনকে CD33 রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধা দিতে পারেন, তাহলে মস্তিষ্কের ক্ষতিকর প্রোটিন অপসারণের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে। এর ফলে ক্ষতিকর প্রোটিন বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছানোর আগেই তাদের জমা হওয়া রোধ করা যাবে।
এছাড়াও RPTP zeta S3L প্রোটিনকে অ্যালজাইমার রোগের প্রাথমিক বায়োমার্কার হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের কৌশল উন্নত করতে সাহায্য করবে। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এর চিকিৎসা আরও কার্যকর হতে পারে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
গবেষকরা RPTP zeta S3L অণুর গঠন এবং কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে এই তথ্যের ভিত্তিতে মস্তিষ্কের ইমিউন প্রতিক্রিয়ার উপর প্রোটিনটির প্রভাব বোঝা এবং নতুন থেরাপি তৈরি করা সম্ভব হবে। এই আবিষ্কারটি অ্যালজাইমার রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গবেষণাটি শুধু অ্যালজাইমারের কারণ সম্পর্কেই নতুন ধারণা দিচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতে কার্যকর ওষুধ এবং রোগ প্রতিরোধের নতুন কৌশল আবিষ্কারের পথও প্রশস্ত করছে।


