বর্তমানে ত্বক, চুল, নখ ও জয়েন্টের সুস্থতার জন্য কোলাজেন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যাপক আলোচিত। তবে অনেকের কাছে কোলাজেন সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। কোলাজেন হলো আমাদের দেহের অন্যতম প্রধান কাঠামোগত প্রোটিন, যা ত্বক, হাড়, কার্টিলেজ, টেন্ডন, লিগামেন্ট, দাঁত, রক্তনালী ও বিভিন্ন টিস্যুর মূল গঠন উপাদান হিসেবে কাজ করে। এটি টিস্যুগুলোকে একত্রে ধরে রাখে এবং মজবুত করে বলে একে প্রায়শই শরীরের “আঠা” বা গ্লু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
কোলাজেন মূলত তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিড গ্লাইসিন, প্রোলিন ও হাইড্রক্সি-প্রোলিন—দিয়ে গঠিত, এগুলো একটি ‘ট্রিপল হেলিক্স’ স্ট্রাকচার তৈরি করে। মানুষের শরীরের মোট প্রোটিনের প্রায় ২৫–৩৫ শতাংশ কোলাজেন। মানুষের শরীরে অন্তত ২৮ ধরনের কোলাজেন পাওয়া যায়, তবে এর মধ্যে পাঁচটি ধরন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। টাইপ I কোলাজেন ত্বক, হাড়, টেন্ডন ও দাঁতে শক্তি ও কাঠামো প্রদান করে। টাইপ ২ মূলত কার্টিলেজ ও জয়েন্টের সাপোর্টে ভূমিকা রাখে। টাইপ ৩ রক্তনালী, ত্বক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নমনীয়তা নিশ্চিত করে। টাইপ ৪ বেসমেন্ট মেমব্রেনের ফিল্টারেশন ও টিস্যু বাউন্ডারিতে কার্যকর, এবং টাইপ ৫ চুল, প্লাসেন্টা ও চোখের কর্নিয়ার সূক্ষ্ম টিস্যু গঠনে সহায়তা করে।
কোলাজেনের কাজ এবং গুরুত্ব বহুমুখী। এটি ত্বকের ইলাস্টিসিটি, দৃঢ়তা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগে কার্টিলেজের ক্ষয় কমাতে এবং ব্যথা উপশমে ভূমিকা রাখে। অস্টিওপোরোসিসে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে সহায়ক, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনের সঙ্গে।রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ইনফ্লেমেশন কমাতে, টেন্ডন ও লিগামেন্টের ক্ষত সারাতে এবং নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে কোলাজেন ক্ষয় ঘটে, যা ২৫ বছরের পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। মেনোপজের পর নারীদের ক্ষেত্রে কোলাজেন ক্ষয় প্রতি বছর প্রায় ২ শতাংশ হারে বাড়ে।অতিবেগুনি রশ্মি, ধূমপান, প্রোটিন ঘাটতি ও ভিটামিন সি-এর অভাব কোলাজেনকে আরও ক্ষয় করে।
কোলাজেন সরাসরি প্রাণীভিত্তিক খাবারে পাওয়া যায়, যেমন গরুর চামড়া ও হাড়, মাছের চামড়া ও হাড়, মুরগির তরুণাস্থি, এবং জেলাটিন। এছাড়া কিছু খাবার কোলাজেন তৈরি বৃদ্ধিতে সহায়ক, যেমন ভিটামিন সি-যুক্ত ফল, প্রোলিন সমৃদ্ধ ডিমের সাদা অংশ ও সবজি, গ্লাইসিন সমৃদ্ধ মাংস ও বীজ, কপার ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ বাদাম, এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ ও বীজ।
প্রতিদিন প্রোটিন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে শরীরের কোলাজেন উৎপাদন ভালো হয়। যেসব ব্যক্তির প্রাণীজ উৎস কম, তারা সয়াবিন, ডাল, বাদাম ও বীজ থেকে কোলাজেন তৈরিতে সহায়ক অ্যামিনো অ্যাসিড নিতে পারেন। তবে কোলাজেন সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ কিডনি, লিভার, গাউট বা হজম সমস্যা থাকলে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


