আগামী মাসে জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার সময় ‘টাইফুন’ নামের মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া ও চীন টোকিওকে সতর্ক করেছে। দুই দেশই এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা শুক্রবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং জাপানে টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন এটি আরও অস্থিতিশীল করার পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, জাপান দ্রুত সামরিকীকরণের পথে এগোচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। জাখারোভা সতর্ক করে বলেন, যদি জাপান টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তবে রাশিয়া উপযুক্ত সামরিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তার সম্পূর্ণ দায়ভার জাপানকেই বহন করতে হবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন একই দিনে মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের উচিত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা, উল্টো তা নষ্ট করা নয়। তিনি জাপানকে আহ্বান জানান, নিজেদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে চলতে এবং সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্ক থাকতে। গুয়ো যুক্তরাষ্ট্রকেও অতীতের শিক্ষা থেকে সঠিক কাজে বেশি শ্রম ও সম্পদ ব্যয় করার পরামর্শ দেন।
টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সেই পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে এশিয়ায় বিভিন্ন ধরনের জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রথমবার ফিলিপাইনে সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়ায় এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে চীন তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর ম্যানিলা ঘোষণা করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কিনবে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার (৩০০ মাইল) এবং এর দীর্ঘপাল্লার সংস্করণও তৈরি হচ্ছে।
জাপানের ‘গ্রাউন্ড সেলফ–ডিফেন্স ফোর্স’–এর একজন মুখপাত্র জানান, টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাখা হবে হনশু দ্বীপের আইওয়াকুনি শহরের যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বিমানঘাঁটিতে, যা টোকিও থেকে প্রায় ৮৯০ কিলোমিটার (৫৫৩ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত। তবে ১১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ ‘রিজলিউট ড্রাগন’ মহড়ায় এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
রাশিয়া ও চীনের সতর্কবার্তা, টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য মোতায়েন এবং জাপানের সামরিকীকরণের এই পরিকল্পনা এশিয়ায় নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


