টানা পাঁচ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়ে সোমবার মধ্যরাত থেকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।রয়টার্স জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এই সংঘর্ষে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ। গত এক দশকের মধ্যে এটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মালয়েশিয়া, আসিয়ান জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের শীর্ষ নেতারা মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বৈঠকে মিলিত হন।বৈঠকে সহিংসতা বন্ধ, সরাসরি যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নে একটি যৌথ কাঠামো গঠনের বিষয়ে সম্মতি হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সাংবাদিকদের বলেন, “এটি শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।” বৈঠকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তার সরকারি বাসভবনে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠকটি চলে।
সংঘর্ষ শুরু হয় গত ২৪ জুলাই সীমান্তবর্তী এলাকায়, যা পরে একাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। দুই দেশের মধ্যকার প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষে মূলত বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে শেষ পর্যায়ে কোনো নতুন সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি বলে উভয় পক্ষ নিশ্চিত করেছে।
এই যুদ্ধবিরতির পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি ভূমিকা ছিল। সপ্তাহান্তে তিনি উভয় দেশের নেতাদের ফোন করে হুঁশিয়ারি দেন যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে তিনি আর কোনো বাণিজ্য চুক্তি করবেন না। বর্তমানে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩৬ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ট্রাম্পের এই চাপই আলোচনায় অগ্রগতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। মে মাসের শেষ দিকে কম্বোডিয়ার এক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর উভয় দেশ সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক সংকটে রূপ নেয় এবং থাইল্যান্ডের দুর্বল জোট সরকার ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, এই চুক্তি শান্তি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সীমান্ত বিরোধ সমাধানে সহায়ক হবে।


