গাজায় যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ আর অনাহার চলছে, তাতে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েল আরও একা হয়ে পড়ছে। ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পশ্চিমা মিত্রদেশ এখন রাজনৈতিক চাপে পড়েছে। এ চাপ আসছে দেশগুলোর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। কারণ, গাজার বাসিন্দাদের অনাহারে থাকার তথ্য-প্রমাণ তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা করছে কি না, তা নিয়ে অনেক বুদ্ধিজীবী এখন প্রশ্ন তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে করা জরিপে দেখা যাচ্ছে, মানুষ ইসরায়েলকে নিয়ে আরও নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এ যুদ্ধ শেষ করার স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনাও দেখা যাচ্ছে না।
ইসরায়েলের লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সাবেক সরকারের হয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া ড্যানিয়েল ল্যাভি বলেন, এখন একধরনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হচ্ছে। অনেক জায়গা, যেমন অপেরা হাউস বা সংগীত উৎসবে ইসরায়েলবিরোধী, ফিলিস্তিনপন্থী—এমনকি কখনো ইহুদিবিদ্বেষী বিক্ষোভ হচ্ছে। পপ তারকা বিলি আইলিশ ও আরিয়ানা গ্র্যান্ডে যুদ্ধবিরতি ও গাজায় সাহায্যের পক্ষে কথা বলেছেন।
জনমত জরিপেও সেই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এপ্রিলে করা এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের ৫৩ শতাংশ এখন ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। ইসরায়েলে হামাসের হামলার আগে এ হার ছিল ৪২ শতাংশ। তাদের মধ্যে খুবই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা মানুষের হার ১৯ শতাংশ। ২০২২ সালে তা ছিল ১০ শতাংশ।
আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ২৪টি দেশের মধ্যে ২০টিতে অর্ধেক বা তার বেশি মানুষ ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, তুরস্কসহ অনেক দেশে এ হার ৭৫ শতাংশের বেশি। তরুণদের মধ্যে এ মনোভাব আরও বেশি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে তাঁর দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও একই কথা বলেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শর্ত সাপেক্ষে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির কথা বলেছেন। এসব এটাই তুলে ধরছে যে ইসরায়েল ও যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন অধ্যাপক বার্নার্ড আভিশাই বলেন–এখন গাজায় যা ঘটছে, তা দেখে জমে থাকা ক্ষোভ বেরিয়ে আসছে। এটা অনেকের ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করা বা ভ্রমণের ইচ্ছা কমিয়ে দিচ্ছে। ইসরায়েলের অর্থনীতিতে এটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চাক ফ্রেইলিচ বলেন–মানুষের মনোভাবে এ বদল এবং ইসরায়েলকে এর জন্য যে মূল্য দিতে হবে, সেই বাস্তবতা বুঝতে দেরি করছেন নেতানিয়াহু। এ মনোভাব বদলের পেছনের কারণ যা-ই হোক না কেন, মূল বিষয়টা হলো ইসরায়েল একঘরে হয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসবিরোধী সংঘাতে ইসরায়েলের পক্ষে। তিনি আগেও নেতানিয়াহুকে যেভাবে খুশি হামলা করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু এবার ট্রাম্পকে গাজার দুর্ভিক্ষের ভিডিও দেখে হতবাক মনে হয়েছে। তাঁর অনেক ঘনিষ্ঠ সমর্থকও এখন বলছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে হবে।
(দৈনিক প্রথম আলো থেকে সংক্ষেপিত)


