নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগে বিরোধীদলকে যুক্ত করে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি, যা সবাই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কিন্তু, নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (পিআর পদ্ধতিতে) রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন এবং সাংবিধানিক নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ–এ দুটি মৌলিক সংস্কারে রাজি নয় বিএনপি। এনসিপি, জামাত, ইসলামী আন্দোলনসহ বেশিরভাগ দল এই দুটি বিষয়ে একমত।
রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে সমকালকে জানিয়েছে–পিআর, উচ্চকক্ষ, সাংবিধানিক নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণসহ কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাবে কাছাকাছি অবস্থানে আনতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি নেতাদের নিয়ে ‘অঘোষিত বৈঠক’ করে সরকার। তবে এতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে জানিয়ে দেন, পিআর পদ্ধতির উচ্চকক্ষ বিএনপি মানবে না। প্রয়োজন হলে উচ্চকক্ষের দরকার নেই। জামায়াত এবং এনসিপির প্রতিনিধিরা বৈঠকে জানান, আনুপাতিক উচ্চকক্ষের দাবি তারা ছাড়বেন না।
পরে সরকারের একজন উপদেষ্টা এ নিয়ে বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন। সেখান থেকেও জানানো হয়, সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যই বিএনপির অবস্থান।
কমিশন প্রস্তাব করেছিল, সংবিধান সংশোধনে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে। বিএনপির ভাষ্য, উচ্চকক্ষের আসন ভোটের অনুপাতে বা পিআর পদ্ধতিতে বণ্টন হলে কোনো দল এককভাবে ৬৭% বা দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাবে না। ফলে ভবিষ্যতে সরকারি দলের পক্ষে একক সিদ্ধান্তে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।
কমিশনের মতো জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলোর যুক্তি, অতীতে সরকারি দলগুলো ৪০-৪৯% ভোট পেয়েও দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে ইচ্ছামাফিক সংবিধান সংশোধন করেছে। এই ব্যবস্থা ঠেকাতেই সংসদের উচ্চকক্ষে তারা পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি জানাচ্ছে।
বিএনপিকে রাজি করাতে না পেরে বিকল্প প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের নেতারা সমকালকে বলেছেন, এ প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য। তাদের বক্তব্য–আনুপাতিক উচ্চকক্ষ ও সাংবিধানিক নিয়োগ কমিটি মৌলিক সংস্কার, এ দুই বিষয়ে কোন ছাড় নেই।
চলমান সংলাপে অংশ নেওয়া ৩০ রাজনৈতিক দল এবং জোটের মধ্যে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ২৩ দল আনুপাতিক পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের বিষয়ে একমত। বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি, নাগরিক ঐক্যও এতে একমত।


