বিবিসি জানিয়েছে–বিশ্বের প্রথম কোম্পানি হিসেবে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যে পৌঁছেছে চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা বাড়তে থাকায় এনভিডিয়া ক্রমেই লাভবান হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রমতে, এআই চিপের ক্ষেত্রে ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ বাজার এখন এনভিডিয়ার দখলে।
৪ ট্রিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৮৭ লক্ষ কোটি টাকা। এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ৬০ বছরের বাজেটের অর্থসংস্থান সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই কোম্পানিটি ২০২৩ সালের জুনে প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যে পৌঁছায়। মাত্র এক বছরের মধ্যে তা তিনগুণ বেড়ে ৪ ট্রিলিয়নে পৌঁছাল।
এই গতি অ্যাপল ও মাইক্রোসফটের চেয়েও দ্রুত। এই দুই প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্যসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কোম্পানি।
টেক বিশেষজ্ঞ ড্যান আইভস একে এনভিডিয়ার জন্য “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করে বলেন, “এখনকার দিনে তাদের চিপই যেন নতুন সোনা আর তেল। এআই বিপ্লবের মূল ভিত্তি একটাই কোম্পানি—এনভিডিয়া।”
এখন কোম্পানিটি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটজিপিটির মতো মডেল চালাতে ব্যবহৃত চিপের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়। এই প্রবৃদ্ধির ফলে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এখন প্রযুক্তি দুনিয়ার বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে তাইওয়ানে তার এতই জনপ্রিয়তা যে, ভক্তরা তাকে রকস্টারের মতো দেখেন।
এনভিডিয়া চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪৪.১ বিলিয়ন ডলার আয়ের কথা জানিয়েছিল, যা গত বছরের তুলনায় ৬৯% বেশি। কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারে ৮১ সেন্ট করে লাভ করেছে।
বর্তমানে এনভিডিয়া বিভিন্ন খাত থেকে আয় করে। যার মধ্যে রয়েছে, ভিডিও গেইম খেলার জন্য গ্রাফিক্স কার্ড তৈরি, পেশাদার ভিজুয়ালাইজেশন, যেমন– থ্রিডি ডিজাইন, অ্যানিমেশন বা সিনেমার জন্য উন্নত গ্রাফিক্স প্রযুক্তি এবং অটোমোটিভ ও রোবোটিক্স সফটওয়্যার ও চিপসেট, বিশেষ করে অটোমোটিভ গাড়ি ও রোবটের জন্য বিশেষ ধরনের চিপ ও সফটওয়্যার তৈরি করে তারা।
তবে এখন পর্যন্ত এনভিডিয়ার সবচেয়ে বড় মুনাফার অংশ আসে ডেটা সেন্টার বিভাগ থেকে। এ বিভাগেই তৈরি হয় বিশেষ ধরনের সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও অন্যান্য প্রযুক্তি, যা বর্তমানে এআই বিপ্লবের পেছনে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে।


