নারী দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের পরও কাবুলে রাষ্ট্রদূত রেখেছে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান ও পাকিস্তান। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে এবং প্রকাশ্যে রাশিয়াই প্রথম তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি প্রদান করলো।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়–তারা জ্বালানি, পরিবহন, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখছে। সন্ত্রাস ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাবুলকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে রাশিয়া।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর অনেক দেশ তাদের কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করলেও রাশিয়া তার কাবুল দূতাবাস চালু রেখেছে।টেলিগ্রামে এক বার্তায় তারা জানায়, কাবুলের সঙ্গে ‘সংলাপ সম্প্রসারণ’ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগেই ২০২২ সালে তালেবান সরকারের সঙ্গে প্রথম আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তি করে রাশিয়া, যার আওতায় আফগানিস্তানে তেল, গ্যাস ও গম রপ্তানির সিদ্ধান্ত হয়।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে মিত্র’ বলে উল্লেখ করেন। ২০১৮ সাল থেকেই তালেবান প্রতিনিধি দল মস্কো সফর করে আসছে।
আফগানিস্তান থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে ইসলামপন্থি জঙ্গিরা রাশিয়ার প্রতি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়তে কাবুলকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে রাশিয়া।
২০২৪ সালের মার্চে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর বন্দুক হামলায় মস্কোর একটি কনসার্ট হলে ১৪৯ জন নিহত হন। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, তাদের গোয়েন্দাদের কাছে এমন তথ্য আছে যা ইঙ্গিত করছে বন্দুকধারীরা আইএসের আফগান শাখা আইসিস-কে’র (ইসলামিক স্টেট খোরাসান) সদস্য।
তালেবানের দাবি, তারা আফগানিস্তান থেকে ইসলামিক স্টেটের নিশানা মুছে ফেলতে কাজ করছে। তবে দুই দেশের ইতিহাস জটিল। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি মিত্র সরকারকে রক্ষার চেষ্টায় আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়। নয় বছরের যুদ্ধে রাশিয়ার ১৫ হাজার সৈন্য নিহত হয়। অবশেষে ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে।
পশ্চিমা দেশগুলো ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো তালেবান সরকারের কঠোর সমালোচক। শরিয়া আইন বাস্তবায়নের নামে তারা নারীদের অধিকার খর্ব করছে—এমন অভিযোগ উঠছে। নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা নিষিদ্ধ, ঘর থেকে বের হতে হলে পুরুষ অভিভাবক বাধ্যতামূলক, কঠোর পোশাকবিধি এবং সর্বশেষ ‘পুণ্যের আদেশ’ আইনে নারীদের ঘরের বাইরে কথা বলাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর প্রকাশ্যে দণ্ড ও নির্যাতন, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার রাস্তায় বিঘ্ন সৃষ্টি করার মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে তালেবান সরকার। সর্বশেষ দেশটিতে দাবা খেলা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের ওপর আরও একটি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আফগানিস্তানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার মধ্যে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার সম্পদ জব্দ করা অন্যতম।


