কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত এক দশকে দেশে ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। মূলত ধান ও গমের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। তা ছাড়া ভুট্টা আবাদে পানি ও কীটনাশক লাগে কম। স্বল্প পরিচর্যায় উচ্চ ফলনের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলে ভুট্টার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
এতে পশুখাদ্য তৈরির অপরিহার্য এ উপাদানের আমদানিও কমছে। দেশের উৎপাদিত ভুট্টার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রাণিখাদ্য বা ফিডশিল্প। ভুট্টাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে নতুন একটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী শ্রেণি তৈরি হয়েছে, যারা কৃষকের কাছ থেকে ভুট্টা কিনে ফিড কোম্পানির কাছে বিক্রি করেন।
২০১৫–১৬ অর্থবছরে ভুট্টার উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ৫৯ হাজার টন। এক দশকের ব্যবধানে গত ২০২৩–২৪ অর্থবছরে এই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টনে। খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশে ভুট্টার বার্ষিক চাহিদা ৭০–৭৫ লাখ টন, যার বেশির ভাগই স্থানীয় উৎপাদনে পূরণ হচ্ছে।
খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে ভুট্টার বাজার তৈরি হয়েছে মূলত প্রাণিখাদ্য বা ফিডশিল্পকে কেন্দ্র করে। গত দেড় দশকে দেশে পশুপালন ও পোলট্রিশিল্প খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। ফিডমালিকেরা বলছেন, ক্ষুদ্র খামারিদের বাকিতে প্রাণিখাদ্য সরবরাহ করে এ খাত সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে ফিডশিল্প। নগদ অর্থে বাজার থেকে শতভাগ ভুট্টা কিনে নিচ্ছে ফিড কারখানাগুলো।
কৃষকেরা বলছেন, ভুট্টা চাষে পরিচর্যা ও পরিশ্রম কম করতে হয়। যেকোনো উঁচু জায়গায় চাষ করা যায়। ফলনও বেশি। আবার মাড়াইপ্রক্রিয়াও বেশ সহজ। বালাইনাশকের প্রয়োজনীয়তাও কম।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি ভুট্টার চাষ হয়। দেশে ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ ১০ জেলা হচ্ছে দিনাজপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, ঝিনাইদহ, জামালপুর ও গাইবান্ধা।


