খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন করে ভাবতে হবে।
রাজধানীতে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫-এর প্রথম দিনের বিকেলের “স্পিড টক” সেশনে তিনি পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
“রাইভ্যালস, রাপচারস অ্যান্ড রিয়্যালাইনমেন্টস” থিমের তিনদিনের এই সম্মেলন ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে ৮৫টি দেশের ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন।
অধ্যাপক সোবহান স্মরণ করেন, ১৯৭০-এর দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলো উত্তর আটলান্টিক শক্তির আধিপত্য মোকাবেলায় ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার দাবি তুলেছিল। লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও মূলধনে ন্যায্য প্রবেশাধিকার-কিন্তু বাস্তবে খুব কমই বদলেছে।
তিনি বলেন, “আজ আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য গ্লোবাল সাউথের দিকে, বিশেষ করে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও নামমাত্র জিডিপিতে প্রথম হলেও চীন দ্বিতীয় এবং ভারত দ্রুত এগোচ্ছে। ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে চীন ইতোমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ভারত তৃতীয়।
তার মতে, ২০৫০ সালের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী নামমাত্র জিডিপিতেও চীন হবে প্রথম, ভারত তৃতীয় এবং আশ্চর্যজনকভাবে ইন্দোনেশিয়া হবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি।
এই পরিবর্তনের পেছনে বাণিজ্য, মূলধন প্রবাহ ও প্রযুক্তিগত শক্তি পুনর্বিন্যাসের ভূমিকা রয়েছে। এখন চীন বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ, এবং পূর্ব এশিয়ার ভেতরকার বাণিজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যকেও ছাড়িয়ে গেছে। সোবহান বলেন, চীন এখন পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম ও মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার বহু দেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। “এগুলো বৈশ্বিক ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে পুনর্গঠন করছে।”
কিন্তু বাংলাদেশের কৌশল এখনও অতীতে আটকে-মার্কিন পোশাকবাজারে নির্ভরতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রতি অতিরিক্ত জোর। তিনি বলেন, ভারত ও চীনের বাজারে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও দেশটি এসব সরবরাহ চেইনে ঢোকার মতো কোন কার্যকর কৌশল তৈরি করেনি।
তিনি নীতিনির্ধারক ও বেসরকারি খাতকে “এলডিসি কোকুন” থেকে বের হয়ে আরও চৌকস, গতিশীল ও সৃজনশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বৈশ্বিক পুনর্বিন্যাসের এই সময়ে বাংলাদেশ চায় “দায়িত্বশীল, সক্রিয় ও সার্বভৌম ভূমিকা” পালন করতে। তিনি ক্ষমতার স্থানান্তর, স্থিতিশীলতার ভঙ্গুরতা, জ্ঞানের অস্ত্রায়ন, অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস এবং জলবায়ু-সীমান্ত-নিরাপত্তা বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সূত্র- দ্য ডেইলি স্টার


