নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে তারা। ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে ভোটারদের কাছে যাবে দলটি। পাশাপাশি খাদ্য সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ সামলাতে স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হবে।
সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সম্ভাব্য প্রচারণা কৌশল পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে শীর্ষ নেতারা স্পষ্টভাবে জানান, কোন বার্তা তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের বেশি আকৃষ্ট করতে পারে—তা নির্ধারণে ভোটার আচরণ বিশ্লেষণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে সম্ভাব্য স্লোগান হতে পারে: “তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষে পক্ষে হোক।”
বিএনপি সাতটি প্রধান খাতকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে গিয়ে সরাসরি প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। খাতগুলো হলো—জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও ধর্মীয় বিষয়। দলের ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এসব প্রতিশ্রুতি তৈরির কাজ চলছে। দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকটি ইউনিটও শিগগির মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হতে যাচ্ছে। প্রচারণার লিফলেটে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড, পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি গাছ রোপণ, চাঁদাবাজি–দুর্নীতি দমনে বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হবে।
স্বাস্থ্যখাতে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস মডেল অনুসরণে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনাও প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে। জলবায়ু ও পানি নিরাপত্তায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী–খাল পুনরুদ্ধার, কমিউনিটি-ভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা পুনরায় চালু এবং আধুনিক তিস্তা ও গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের অঙ্গীকারও ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আর্থিক সংকটে থাকা ইমাম–মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও প্রতিশ্রুতির অংশ থাকবে।
শিক্ষাখাতে বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। স্কুল পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া, শিল্প–সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনে শিক্ষার্থীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতিও থাকবে প্রচারণায়।
এদিকে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন–সংশ্লিষ্ট ক্ষোভ প্রশমনে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। টিকিট না পাওয়া নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। রুহুল কবির রিজভীর তত্ত্বাবধানে মূলধারার গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তৃণমূলে প্রচারণায় সমন্বিত কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সাত সদস্যবিশিষ্ট সাতটি দল গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রচারণা আরও গতিশীল করা হবে।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় দুর্বলতা চিহ্নিত করছেন এবং ভোটের আগে সেগুলো সমাধানে কাজ করছেন। যেখানে অন্তর্দ্বন্দ্ব কম, সেখানে পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ, ব্যাকআপ এজেন্ট প্রস্তুত এবং ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ব্যানার–ফেস্টুন–বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় পেশাজীবী গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনায় স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকারও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র- দ্য ডেইলি স্টার


