হ্যাক হতে পারে আপনার DNA’ও

আধুনিক বিজ্ঞানের এক বড় অগ্রগতি হলো DNA সিকোয়েন্সিং। চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় এবং গবেষণায় এটি এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ পোর্টসমাউথের একদল গবেষক একটি ভয়াবহ বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, আপনার জেনেটিক তথ্য এখন হ্যাকারদের হাতে পড়ার ঝুঁকিতে আছে।

DNA সিকোয়েন্সিং প্রক্রিয়াটি নানা ধরনের সাইবার দুর্বলতায় পূর্ণ। একটি DNA নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে ডেটা বিশ্লেষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে হ্যাকারদের প্রবেশ করার সুযোগ রয়েছে। তারা এই ডেটা চুরি করতে পারে, পরিবর্তন করতে পারে, অথবা এটিকে ভয়ংকর কাজে ব্যবহার করতে পারে।যেহেতু জেনেটিক ডেটা একজন ব্যক্তির সবচেয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, তাই এর অপব্যবহারের পরিণতি হতে পারে মারাত্মক।

হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিগুলো কী কী?

গবেষকরা কিছু নতুন এবং ভয়ঙ্কর ঝুঁকির কথা বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সিন্থেটিক DNA-এর মধ্যে লুকানো ম্যালওয়্যার, হ্যাকাররা সিন্থেটিক বা কৃত্রিম DNA-এর কোডের মধ্যে ম্যালওয়্যার (ক্ষতিকর সফটওয়্যার) লুকিয়ে রাখতে পারে। যখন এই DNA সিকোয়েন্স করা হয়, তখন ওই ম্যালওয়্যার কম্পিউটারে ঢুকে ডেটা চুরি বা নষ্ট করতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হ্যাকাররা জেনেটিক ডেটা পরিবর্তন করে এমন তথ্য তৈরি করতে পারে, যা পরবর্তীতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অনেক সময় গবেষণার জন্য বেনামি DNA নমুনা ব্যবহার করা হয়, যাতে ব্যক্তির পরিচয় গোপন থাকে। কিন্তু হ্যাকাররা এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, যার মাধ্যমে এই বেনামি নমুনা থেকেও কোনো ব্যক্তির পরিচয় খুঁজে বের করা সম্ভব।

এই ঝুঁকির কারণে কী হতে পারে?

যদি আপনার জেনেটিক তথ্য চুরি হয়ে যায়, তাহলে এর ফলাফল হতে পারে মারাত্মক। যেমন –

হ্যাকাররা আপনার জেনেটিক তথ্য ব্যবহার করে আপনার পরিচয় চুরি করতে পারে এবং আপনার নামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।

আপনার জেনেটিক ডেটার দুর্বল দিকগুলো জেনে হ্যাকাররা আপনাকে ব্ল্যাকমেল করতে পারে।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, এই ডেটা ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জেনেটিক দুর্বলতা খুঁজে বের করা এবং তাদের বিরুদ্ধে বায়োলজিক্যাল অ্যাটাক চালানো।

কোনো রোগীর জেনেটিক ডেটা পরিবর্তন করে ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ পোর্টসমাউথের গবেষণাটিই প্রথম, যা DNA সিকোয়েন্সিংয়ের সাইবার-বায়োসিকিউরিটি ঝুঁকিগুলোকে এত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে।তারা বলছেন, বর্তমানে যে সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে তা এই ঝুঁকির মোকাবেলায় যথেষ্ট নয়। যেহেতু জেনেটিক ডেটা এখন স্বাস্থ্যসেবা এবং গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

গবেষকরা সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি ডেভেলপারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা একটি সমন্বিত এবং শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। যদি এখনই পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আপনার সবচেয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, আপনার DNA, ভুল মানুষের হাতে চলে যেতে পারে এবং এক ভয়ঙ্কর হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে। এ কারণে আমাদের প্রত্যেকেরই এই বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কারণ ভবিষ্যতে আপনার DNA-ই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন