সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে স্মার্টওয়াচ এবং ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যান্ড থেকে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে বিপজ্জনক রাসায়নিক, যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গবেষণাটি Environmental Science & Technology Letters নামক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এসব স্মার্টওয়াচ ব্যান্ড সাধারণত fluoroelastomers নামক সিনথেটিক রাবার দিয়ে তৈরি হয়। এই পদার্থের মধ্যে উচ্চমাত্রায় perfluorohexanoic acid (PFHxA) নামক রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যা per- and polyfluoroalkyl substances (PFAS) নামে পরিচিত একটি বৃহৎ শিল্পজাত রাসায়নিক গোষ্ঠীর অংশ। PFAS-কে সাধারণত “চিরস্থায়ী রাসায়নিক” (Forever Chemicals) বলা হয়, কারণ এগুলো পরিবেশ এবং মানবদেহ উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘস্থায়ীভাবে থেকে যায় এবং সহজে বিচ্ছিন্ন হয় না।
গবেষণায় বলা হয়েছে, PFAS-এর মতো রাসায়নিক দীর্ঘকাল ব্যবহৃত হয়ে আসছে বিভিন্ন ভোক্তা পণ্যে, যেমন নন-স্টিক রান্নার পাত্র, জলরোধী কাপড় এবং অগ্নিনির্বাপণ ফোম। তবে স্মার্টওয়াচ ব্যান্ডে এত বেশি পরিমাণে PFHxA থাকার তথ্য গবেষকদেরও বিস্মিত করেছে। ২২টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচ ব্যান্ড বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন, সবচেয়ে বেশি মাত্রায় শনাক্ত হওয়া যৌগটি ছিল এই perfluorohexanoic acid।
PFAS-এর স্বাস্থ্যের ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ, বন্ধ্যাত্ব, হরমোনজনিত সমস্যা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস। বিশেষ করে এই রাসায়নিকটি ত্বকের মাধ্যমে শোষিত হতে পারে—যা আরও উদ্বেগজনক। যখন কেউ শারীরিক ব্যায়াম করেন, তখন ঘাম এবং রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়, ফলে ত্বকের ছিদ্র উন্মুক্ত হয়ে রাসায়নিক শোষণের হার বাড়িয়ে দেয়। অতএব যারা নিয়মিত স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকার পরে ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।
গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, গ্রাহকরা চাইলে এই ঝুঁকি এড়াতে fluoroelastomer-এ তৈরি ব্যান্ড পরিহার করতে পারেন। পরিবর্তে সিলিকন, কাপড় বা চামড়ার মতো অন্যান্য বিকল্প উপাদানের ব্যান্ড বেছে নেওয়া যেতে পারে যেগুলো PFAS-মুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট গ্যাজেট ব্যবহারকারীদের ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত, কারণ দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যের মাধ্যমে দেহে রাসায়নিক প্রবেশের বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এই গবেষণা স্মার্টওয়াচ শিল্পের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যেখানে প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা ও নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি প্রয়োজন, যাতে এই ধরনের রাসায়নিক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায় এবং নিরাপদ বিকল্প উপকরণ ব্যবহারের পথ তৈরি হয়।


