নতুন প্রজন্মের মধ্যে এস্ট্রলোজি বা জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত জেন- জি’র মধ্যে। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং টুইটারের মত সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে এই আগ্রহের প্রবণতা বিস্তৃত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে আমরা দেখব কেন জেন-জি’র মধ্যে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি এত আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং এটি কীভাবে তাদের জীবন, চিন্তাভাবনা এবং সৃজনশীলতা প্রভাবিত করছে। জেনারেশন জেডের অনেক তরুণ-তরুণী জ্যোতিষশাস্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের চিনতে এবং নিজের সম্পর্কে আরও জানতে চেষ্টা করছে। তাদের কাছে “সান সাইন”, “মুন সাইন”, এবং “রাইজিং সাইন” এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা আছে প্রতিটি ব্যক্তি জন্মের সময় আকাশে যে নক্ষত্রপুঞ্জ এবং গ্রহের অবস্থান ছিল, তা তাদের ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক চিহ্নিত করতে সহায়ক হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের অনুভূতি, সম্পর্ক, এবং জীবনযাত্রা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, জেনা-জি’কে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট করার একটি বড় কারণ ইদানীংকার সামাজিক সংযোগের অনুভূতি।জ্যোতিষশাস্ত্রের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারছে, যেখানে তারা একে অপরের সান সাইন, মুন সাইন, এবং রাইজিং সাইন নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এই আলোচনা এবং মজা করার মাধ্যমে এক ধরনের সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে, যেখানে একে অপরের অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করা হয়। বিশেষত জ্যোতিষশাস্ত্রের বিভিন্ন দিক যেমন “জোডিয়াক কম্প্যাটিবিলিটি” বা রাশির মিল খোঁজা তাদের মধ্যে এক ধরনের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে যে, তারা একে অপরকে বুঝতে পেরেছে এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এখানে প্রতিটি রাশি বা গ্রহের শক্তির সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়, যা গ্রুপের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা এবং মিলের অনুভূতি তৈরি করে।
এই জেনারেশন জেড যেহেতু এক বিপর্যস্ত বিশ্বে বেড়ে উঠছে, তাদের জীবনে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। পৃথিবীজুড়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সমস্যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হয়তো জ্যোতিষশাস্ত্র তাদের জন্য এক ধরনের আশ্বাস প্রদান করছে। বিশেষত গ্রহের গতি এবং রেট্রোগ্রেডের মতো বিষয়গুলি তাদের জীবনে দিকনির্দেশনা দেয় এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পথচলার জন্য সাহস প্রদান করে। যখন তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয় বা কঠিন সময় পার করে, তখন তারা নিজেদের জানাতে চায় যে, এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চলে যাবে। এর ফলে তারা অনুভব করে যে, প্রকৃতির একটি রীতি রয়েছে এবং তারা তার অনুসরণ করছে, যা তাদের জীবনে কিছুটা শান্তি এবং সান্ত্বনা দেয়।
এছাড়াও জ্যোতিষশাস্ত্রের শৈল্পিক এবং চিত্রময় দিকটি জেন-জি’কে আকর্ষণ করছে। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতীকগুলি, নক্ষত্রমালা, গ্রহ, এবং অন্যান্য আকাশীয় চিত্রগুলি তাদের জন্য এক ধরনের শৈল্পিক অভিব্যক্তি হিসেবে কাজ করে। এসব চিত্র এবং প্রতীকরা তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও শিল্পকর্মে প্রভাব ফেলছে। এই শৈল্পিক উপাদানগুলি তাদের ফ্যাশন, শিল্প, এবং ডিজাইনে উঠে আসছে। অনেক তরুণ জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতীক, রাশিচক্রের চিত্র এবং আকাশীয় দৃশ্যগুলিকে তাদের পোশাক, ট্যাটু এবং অন্যান্য শৈল্পিক কাজের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি তাদের সৃজনশীলতা এবং নিজের স্বতন্ত্রতা প্রকাশের একটি উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির প্রভাব এই প্রবণতার বিস্তারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের বেশিরভাগ সময় কাটে এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে, যেখানে তারা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়, বিভিন্ন রাশির উপর আলোচনা করে এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে।তারা খুব সহজে তাদের বার্থ চার্ট বা গ্রহের গতি নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাদের জীবনকে আরও বুঝতে চেষ্টা করতে পারে। বিশেষত টিকটক এবং ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার ভিডিও এবং পোস্ট শেয়ার করা হচ্ছে, যা জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি আরও আগ্রহ তৈরি করছে।


