অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত অর্থনৈতিক কৌশল পুননির্ধারণ টাস্কফোর্সের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ রাখা অর্থের ৫৩ শতাংশই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অবসরভোগী সরকারি কর্মচারীর পেনশন, কৃষি খাতে ভর্তুকি ও সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধসহ ২১টি খাতকে গরিব মানুষের সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে টাস্কফোর্স।
সামাজিক সুরক্ষার নামে কিছু খাতে বরাদ্দের আরও কিছু উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেমন – জয়িতা ফাউন্ডেশনের ভবন নির্মাণ, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যন্ত্রপাতি কেনা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কল্যাণে অনুদান, ইলিশ মাছ সম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তি কর্মসূচি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনা মূল্যে বই ছাপা ও বিতরণের খরচ। সামাজিক সুরক্ষা বাজেটের নামে বরাদ্দ রাখা হলেও এসব টাকা শেষ পর্যন্ত দরিদ্র ও আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী পায় না। ফলে তাদের দারিদ্র্য অবস্থারও উন্নতি হয় না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৫৪ শতাংশ পরিবার সামাজিক সুরক্ষা আওতার বাইরে। অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পায়, এমন ৬২ শতাংশ পরিবার গরিব নয় এবং তারা কোনো ঝুঁকির মধ্যেও নেই। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব ত্রুটি দূর করা গেলে আরও অন্তত ১১ লাখ মানুষকে অতিদরিদ্র ও ২৫ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতো। টাস্কফোর্স মনে করে, সামাজিক সুরক্ষা হিসেবে সুবিধাভোগীদের যত টাকা ভাতা দেওয়া হয়, তা ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এই ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে প্রতি মাসে ৬০০ টাকা করে বয়স্কভাতা, ৫৫০ টাকা করে বিধবা ভাতা ও ৮৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট দলিল অনুসারে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মোট ১৪০টি খাতে এসব অর্থ ব্যয় করা হবে। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রের (এনএসএসএস) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এমন ২১টি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ৭২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটের ১৭ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পেনশনের মতো অসামঞ্জস্যপূর্ণ ২১টি কর্মসূচি বাদ দিলে সেই বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭ শতাংশে।


