শনিবার দলের বনানী কার্যালয়ে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন – ‘প্রধান উপদেষ্টা একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে মতবিনিময় করেছেন। এতে জাতীয় ঐক্যের নামে ‘জাতীয় অনৈক্যের’ সূচনা হল। ৪৮টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে মাত্র ১৮টি দলের সাথে মতবিনিময় করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী দলকে জাতীয় ঐক্যের ডাকের বাইরে রাখা হয়েছে, সংলাপের বাইরে রাখা হয়েছে।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কি সবার মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার করছে? এখন দেখা যাচ্ছে ঐক্যের চেয়ে প্রতিশোধের বিষয়টি সামনে আসছে। হত্যা মামলায় লাখ লাখ মানুষকে আসামি করা হচ্ছে।’ জি এম কাদের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ হতাশাগ্রস্ত। ইচ্ছা করে সবাই শেখ হাসিনার অপকর্মে জড়ায়নি। সবাইকে ঢালাও অপরাধী বানিয়ে বাদ দিলেন; শূন্যস্থানগুলোতে নিয়োগে দলীয়করণ হয়েছে। তারা সরকারের চেয়ে নিয়োগদাতাদের কথা বেশি শুনছে। এমন প্রশাসন দিয়ে কীভাবে সংস্কার ও নির্বাচন হবে?’
‘শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে’ অন্তর্বর্তী সরকার ‘জিম্মি’ হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার যা করতে চায়, তা করতে পারছে না।’ ব্যবসায়ীসহ সব পেশাজীবীরাও দেশের পরিস্থিতি দেখে চিন্তিত ও দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন জাতীয় পার্টির নেতা।
জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা জানি, আপনারা সবাই ভালো মানুষ। কিন্তু কাজ করার শক্তি অন্তর্বর্তী সরকার হারিয়ে ফেলেছে। মানুষকে পথেঘাটে নির্যাতন করা হচ্ছে। আমাদের লোকজন ভোট দিতে পারবে? আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াতে পারবে? আওয়ামী লীগের মতো কয়েকটি দল নিয়ে একতরফা নির্বাচন করে সব পাশ করিয়ে দিলে, তা টেকসই হবে? এমন সংস্কারে কি রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে? অস্থিরতা কি থামবে? একতরফা নির্বাচনের জন্য শেখ হাসিনা নিন্দা করা হয়, আপনারা কি একই জিনিস করবেন? নির্বাচন হতে হবে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। কোনো রাজনৈ-ি তক দল যদি সন্ত্রাসী সংগঠন না হয়, রাজনীতি ও ও নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা যাবে না।’
সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ চলছে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘সাংবাদিকরা ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নির্বিচারে আমাদের লোকদের ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়ানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কিন্তু জামিন দেওয়া হচ্ছে না, আমরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হচ্ছি।’ ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত হবে না’ এমন অবস্থানের কথা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যারা দোষ করেছে তাদের তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করুন। ‘আন্দাজে’ মামলা দিয়ে কাউকেই শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। একটি সংগঠনের সবাই কি অপরাধী?’


