ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে সৃষ্ট ধূম্রজালের মধ্যে নতুন তথ্য দিয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে উদ্ধৃত করে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনও দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বহু চেষ্টা করেও রাষ্ট্রপতি সেই পদত্যাগপত্র পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। মতিউর রহমান চৌধুরীর লেখা ‘উনি তো কিছুই বলে গেলেন না’ শিরোনামে এই ‘নেপথ্যের গল্প’ প্রকাশিত হয়েছে মানবজমিন-এর রাজনৈতিক ম্যাগাজিন ‘জনতার চোখ’-এ ১৯ অক্টোবর। প্রতিবেদনে প্রবীণ এই সাংবাদিক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার কথোপকথন তুলে ধরেছেন।
রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন মতিউর রহমান চৌধুরীকে বলেন-‘আমি শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আমার কাছে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। বহু চেষ্টা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছি। তিনি হয়তো সময় পাননি। ৫ই আগস্ট সকাল সাড়ে দশটায় বঙ্গভবনে ফোন এলো প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে। বলা হলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন মহামান্য প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য। এটা শুনেই প্রস্তুতি শুরু হলো বঙ্গভবনে।ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ফোন এলো তিনি আসছেন না।’
‘যাই হোক, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার যখন বঙ্গভবনে এলেন তখন জানার চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন কি না? একই জবাব। শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। মনে হয় সে সময় পাননি জানানোর। সব কিছু যখন নিয়ন্ত্রণে এলো তখন একদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এলেন পদত্যাগপত্রের কপি সংগ্রহ করতে। তাকে বললাম, আমিও খুঁজছি।’ এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘এ নিয়ে আর বিতর্কের কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী চলে গেছেন এটাই সত্য। তারপরও কখনো যাতে এ প্রশ্ন না উঠে সে জন্য সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিয়েছি।’


