দেশে শিল্প-সাহিত্য চর্চা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে-এমন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে এখন প্রচুর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। আর পহেলা বৈশাখ বাঙালি একটি বড় উৎসব। এটি প্রত্যেকবার যেভাবে পালিত হয় এবারও সেভাবেই পালিত হবে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকায় জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অধিবেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘আবার অস্বীকার করছি না যে, কোথাও কোথাও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। তবে অনেক জায়গায় সফলভাবে অনুষ্ঠানও হচ্ছে। যেখানে সমস্যা, সেখানেই আমরা সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করছি।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর যে পরিমাণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে এখন তার চেয়ে আরও বেশি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেও অনেক বাউলকে ধরে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমস্যা তখনও ছিল এখনও আছে। তবে এখনকার সমস্যাগুলোকে কেউ কেউ বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে।’ সংস্কতি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা একটু খেয়াল করে দেখুন-এখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কী পরিমাণ হচ্ছে। ফলে ঢালাওভাবে মন্তব্য করাটা মুশকিল। আমরা একদিনে এই বাংলাদেশকে বদলে ফেলতে পারবো না। আমরা দেশটাকে পেয়েছি পুলিশবিহীন অবস্থায়।’ সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসন ঠিক করে এখানে আসাটা সহজ কাজ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নাট্য উৎসব বন্ধের পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। তাদেরই (নাট্যকর্মীদের) আরেকদলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সেটি বন্ধ করা হয়েছে। কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত নয়। এর সঙ্গে সরকারেরও কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ তিনি আরো বলেন-বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যা-ই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ও সব বাংলাদেশির সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখাটাই চীনের নীতি।


