সংগত কারণেই বর্তমানে সার সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। তাই বেশি সুদে ঋণ নিয়ে হোক আর অন্য যে কোনো উপায়ই হোক; চলতি মৌসুমে সরকারকে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে।
ডলার সংকটে গত জুন থেকে অন্তত তিন মাস সার আমদানির এলসি খোলা স্থগিত ছিল। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত গড়ে তুলতে না পারায় সারাদেশে সার সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানির জন্য মূল্য যথাসময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বেশ কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সার সরবরাহ করেনি বলে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ফলে শিগগিরই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
চিঠিতে বলা হয়, দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের সারের মোট চাহিদা প্রায় ৬৫ লাখ টন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সার কারখানাগুলোর মাধ্যমে চাহিদার মাত্র ১৫% উৎপাদন করা সম্ভব হয়। অবশিষ্ট সার সরকারি পর্যায়ে বিসিআইসি ও বিএডিসি এবং বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। সার আমদানিতে সরকারকে ভর্তুকি হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থও ব্যয় করতে হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যথাসময়ে মূল্য পরিশোধ করতে না পারায় এলসি খোলা হলেও মরক্কো, সৌদি আরব ও তিউনিসিয়া টিএসপি ও ডিএপি সারের পাঁচটি লটের জাহাজীকরণ বাতিল করে। একইভাবে চীন ও রাশিয়াও নির্ধারিত সময়ে সার সরবরাহ করেনি। এ ঝুঁকি এড়াতে সার রপ্তানিকারকদের যথাসময়ে মূল্য পরিশোধের বিকল্প নেই।
সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক সমকালকে বলেন, সংগত কারণেই বর্তমানে সার সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। তাই বেশি সুদে ঋণ নিয়ে হোক আর অন্য যে কোনো উপায়ই হোক; চলতি মৌসুমে সরকারকে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। কারণ জানুয়ারি থেকে ব্যাপক পরিমাণে ইউরিয়া সারের চাহিদা থাকবে।


